etcnews
ঢাকাThursday , 13 August 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি
box ad 6
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বহুমুখী সংকটে থমকে আছে সেন্টমার্টিনের জনজীবন

etcnews
August 13, 2026 10:35 am
Link Copied!

নীল জলরাশির বুকজুড়ে প্রবাল, সাদা বালুর সৈকত আর সারি সারি নারকেলগাছ-প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে সেন্টমার্টিন যেন বাংলাদেশের এক অনন্য দ্বীপভূমি। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালেই বহুমুখী সংকটে কঠিন সময় পার করছেন দ্বীপের বাসিন্দারা। বৈরী আবহাওয়ায় বারবার নৌযান চলাচল বন্ধ, পর্যটন খাতে মন্দা, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং দুর্যোগের ঝুঁকি-সব মিলিয়ে তাদের থমকে গেছে দ্বীপবাসীর জনজীবন।

দ্বীপবাসীরা জানান, সাগর উত্তাল থাকলে ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা সম্ভব হয় না। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের সংকট দেখা দেয় এবং দামও বেড়ে যায়।তাদের দাবি, দ্বীপে সরকারি উদ্যোগে একটি খাদ্যগুদাম বা জরুরি খাদ্য মজুতের ব্যবস্থা করা হলে এমন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

‘সেন্টমার্টিনে প্রতি মাসেই প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পাঠানো হয়। পাশাপাশি দ্বীপে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আলাদা খাদ্য মজুত রাখার জন্য একটি খাদ্যগুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

অন্যদিকে, পর্যটনের ভরা মৌসুমে বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্বীপের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের সারা বছরের আয় পর্যটননির্ভর। ফলে পর্যটন ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলে তাদের জীবিকা সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে। ফলে অনিশ্চয়তায় কাটাতে হয় দিন।স্থানীয়দের অভিযোগ, সেন্টমার্টিন হাসপাতালে প্রায় দুই বছর ধরে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক (র‍্যাবিস) ভ্যাকসিন নেই। অথচ দ্বীপে বিপুলসংখ্যক কুকুর রয়েছে এবং সামনে কুকুরের প্রজনন মৌসুম। এ সময় কুকুরের আক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তাই দ্রুত হাসপাতালে পর্যাপ্ত র‍্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন দ্বীপবাসী। সে সঙ্গে সেন্টমার্টিনে যে হাসপাতাল রয়েছে সেখানে নিয়মিত ডাক্তার নেই।ফলে মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত।

বিদ্যুৎ সংকটও দীর্ঘদিনের সমস্যা। বর্ষাকালে পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। একই সঙ্গে ব্লু মেরিন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারায় অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয় বাসিন্দাদের। এতে সাধারণ জীবনযাত্রার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে।সেন্টমার্টিনের অধিকাংশ মানুষ পর্যটননির্ভর হলেও বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে পর্যটকের সংখ্যা কমে গেছে, ফলে মানুষের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। দ্বীপে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নেই। বৈরী আবহাওয়ায় নৌ-যোগাযোগ বন্ধ থাকলে জরুরি প্রয়োজনে টেকনাফে যাতায়াতও সম্ভব হয় না। অন্যদিকে সাগরে আরাকান আর্মির দৌরাত্ম্যের কারণে জেলেরা নিরাপদে মাছ ধরতে যেতে ভয় পান। সব মিলিয়ে সেন্টমার্টিনের মানুষ নানামুখী সংকটের মধ্যে বসবাস করছেন।’

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও সেন্টমার্টিনের অন্যতম বড় উদ্বেগ। স্থানীয়দের মতে, বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস হলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা দ্বীপের ভূমির চেয়ে বেশি হয়ে যায়। এতে পুরো দ্বীপ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে। নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, শক্তিশালী উপকূলীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন তারা। সে সঙ্গে সাগরে আরাকান আর্মির দৌরাত্ম্য, মাছ ধরতে জেলেরা বেশিরভাগ সময় তারা ভয় পান।

দ্বীপবাসীর দাবি, সেন্ট মার্টিনের এসব দীর্ঘদিনের সমস্যার টেকসই সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। খাদ্য নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ যোগাযোগ এবং পর্যটন খাতের ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে দ্বীপের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।সেন্টমার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, সেন্ট মার্টিনে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকা নেই। বিদ্যুৎ সংকটও চরম আকার ধারণ করেছে। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ায় নৌ-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দেয়। তাই দ্রুত হাসপাতালে রেবিস টিকা সরবরাহ, বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা চালু এবং দ্বীপে একটি সরকারি খাদ্যগুদাম স্থাপনের দাবি জানাই।স্থানীয় বাসিন্দা মো. শোয়েব বলেন, সেন্টমার্টিনের অধিকাংশ মানুষ পর্যটননির্ভর হলেও বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে পর্যটকের সংখ্যা কমে গেছে, ফলে মানুষের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। দ্বীপে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নেই। বৈরী আবহাওয়ায় নৌ-যোগাযোগ বন্ধ থাকলে জরুরি প্রয়োজনে টেকনাফে যাতায়াতও সম্ভব হয় না। অন্যদিকে সাগরে আরাকান আর্মির দৌরাত্ম্যের কারণে জেলেরা নিরাপদে মাছ ধরতে যেতে ভয় পান। সব মিলিয়ে সেন্টমার্টিনের মানুষ নানামুখী সংকটের মধ্যে বসবাস করছেন।

‘সাগরে বৈরী আবহাওয়া বা কোনো সতর্কসংকেত জারি হলে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। ফলে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় এবং সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপবাসী দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী সংকটে রয়েছেন। এসব সমস্যা সরকারের নজরে এনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সমস্যাগুলোর সমাধান হলে সেন্ট মার্টিনের মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, সাগরে বৈরী আবহাওয়া বা কোনো সতর্কসংকেত জারি হলে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। ফলে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় এবং সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।তিনি বলেন, দ্বীপের প্রয়োজনীয় অধিকাংশ খাদ্যপণ্য টেকনাফ হয়ে সেন্টমার্টিনে পৌঁছে। তাই ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকলে খাদ্যপণ্য সরবরাহও ব্যাহত হয় এবং সংকট দেখা দেয়।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল হোসাইন বলেন, তিনি বর্তমানে অসুস্থ থাকায় ছুটিতে আছেন। তবে তিনি শুনেছেন, সেন্টমার্টিনে বর্তমানে কোনো চিকিৎসক কর্মরত নেই। সেখানে চিকিৎসক দেওয়ার বিষয়ে কাজ চলছে।কুকুরের জলাতঙ্ক প্রতিষেধক (রেবিস) টিকার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রাণিসম্পদ বিভাগের আওতাধীন। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইভস্টক কর্মকর্তারা কাজ করছেন। আশা করা যাচ্ছে, শিগগিরই প্রয়োজনীয় টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, সেন্টমার্টিনে প্রতি মাসেই প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পাঠানো হয়। পাশাপাশি দ্বীপে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আলাদা খাদ্য মজুত রাখার জন্য একটি খাদ্যগুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নৌযোগাযোগ ব্যাহত হলে খাদ্য পরিবহনে সাময়িক সমস্যা দেখা দেয়। এরপরও জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে যতটা সম্ভব দ্রুত খাদ্যসামগ্রী দ্বীপে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।