etcnews
ঢাকাTuesday , 28 July 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি

চলতি মাসে গ্যাস সংকট কাটছে না

etcnews
July 28, 2026 11:50 am
Link Copied!

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গত মঙ্গলবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে জাতীয় গ্রিডে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়। বর্তমানে টার্মিনালটির মেরামত কাজ শুরু হলেও চলতি মাসে এটি কার্যক্রমে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সহসা গ্যাসের সংকট কাটার সম্ভাবনা নেই। তবে দ্রুততম সময়ে টার্মিনালটি মেরামত করার চেষ্টা চলছে।আমদানিকৃত এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশনের পর পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দেশে ভাসমান টার্মিনাল (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বা এফএসআরইউ) আছে দুটি। যার সম্মিলিত গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। গত মঙ্গলবারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি টার্মিনালের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় গ্যাস সংকটে মুখে পড়েছে দেশ।পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, টার্মিনালের বয়লার থেকে বের হওয়ার সিগন্যালবাহী ইলেকট্রিক্যাল তারে শর্টসার্কিটের ঘটনা থেকে অগ্নিকাণ্ড হয়। এরই মধ্যে বিদেশি প্রকৌশলীরা তা মেরামতে কাজ শুরু করেছেন। তবে চলতি সপ্তাহে তা ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যার মধ্যে সরবরাহ করা হয় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট, ফলে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। দৈনিক চাহিদার বিপরীতে ৩০ শতাংশ কম গ্যাস সরবরাহ হলেও ঘাটতি বেড়ে এখন তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় গ্যাসের এ সংকট তৈরি হয়েছে। সেটি মেরামতের কাজ চলছে। তবে, জুলাই মাসের মধ্যে তা ঠিক হবে না, আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। আবাসিকে চরম ভোগান্তি: গ্যাস সংকটের ফলে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন আবাসিকের গ্রাহকরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চুলায় গ্যাস থাকছে না। ফলে রান্নাবান্নাসহ আনুষঙ্গিক কাজ করা অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা গৃহিণী পারভীন আক্তার বলেন, সারাদিনই চুলায় কোনো গ্যাস থাকে না। উপায় না পেয়ে খাবার কিনে আনতে হয়। রাতে যদিও গ্যাস আসে, তখন রান্নার কাজ সারতে হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরের আদাবরের বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, চুলায় গ্যাসের চাপ এতই কম যে, রান্না চড়ালে তা এক ঘণ্টাতেও শেষ হচ্ছে না। এভাবে করে খাওয়া-দাওয়া নিয়ে বিপাকে আছি।

এদিকে বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার ও ইনডাকশন চুলায় ঝুঁকছেন আবাসিকের গ্রাহকরা। যদিও তা খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে দ্বিগুণ। আবাসিকের বিল মেটানোর পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থাতেও পয়সা গুনতে হচ্ছে বলে জানালেন অনেক ব্যবহারকারী।

তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান কালবেলাকে বলেন, তিতাসের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ১৯০ কোটি ঘনফুটের মতো। এলএনজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় তা ১২০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। টার্মিনাল ঠিক না হওয়া পর্যন্ত ঘাটতি পূরণ করা যাবে না।

সিএনজি স্টেশনে গাড়ির লাইন: এদিকে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজধানীর প্রায় সব ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় গ্যাস নিতে আসা যানবাহনের সারি বেড়েই চলেছে।

মগবাজারের আনুদীপ সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নিতে অপেক্ষা করছিলেন সিএনজিচালক মো. আল আমিন। তিনি বলেন, যে স্টেশনেই যাচ্ছি, সেখানেই বলা হচ্ছে গ্যাস নেই। এখানে গ্যাস থাকলেও চাপ কম। সবাই চাহিদামতো পাচ্ছে না।

আরেক চালক মো. কাউছার বলেন, দৈনিক ট্রিপের জন্য যে পরিমাণ গ্যাস দরকার, তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ট্রিপ কমাতে হচ্ছে, এতে করে উপার্জনও কমে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি করা জ্বালানির ওপর অতি নির্ভরতা সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। এ সংকট কাটাতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে জোর দেওয়া প্রয়োজন ছিল।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন কালবেলাকে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি জ্বালানির সংকট কাটাতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের দেশে গ্যাসের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে; কিন্তু তা উত্তোলনে মনোযোগ না দিয়ে আমদানিতেই জোর দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সরকার নতুন কূপ খননে উদ্যোগ নিয়েছে, তবে তা আরো আগেই গ্রহণ করা দরকার ছিল। তাতে করে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হতো।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।