etcnews
ঢাকাMonday , 27 July 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি
box ad 6
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আগের অভিযোগে ফেঁসে যেতে পারেন সাহাবুদ্দিন

etcnews
July 27, 2026 11:26 am
Link Copied!

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করার পর বঙ্গভবন ছেড়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার পদত্যাগ করার পর গতকাল রোববার বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশানের নিজ বাসায় ওঠেন তিনি। বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দায়িত্ব নেওয়া সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না। কারণ সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি থাকার সময় কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের বা পরের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে কিছু বলা নেই। তাই অনেকেই মনে করছেন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগের কর্মকাণ্ডে ফেঁসে যেতে পারেন মো. সাহাবুদ্দিন।এদিকে গতকাল রোববার সদ্য সাবেক এই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে দুটি অভিযোগ করা হয়েছে। পৃথকভাবে এসব অভিযোগ করে বাংলাদেশ আজাদ পার্টি ও রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম।রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে গতকাল রোববার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অতীত কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, জনগণের দাবি ও বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার এবং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালীন সময়ের কার্যকলাপ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার চায় না অন্যায়ভাবে কেউ কষ্ট পাক। তবে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বৈরাচারের শেষ দিকে ও অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময় এবং বর্তমান সরকারের প্রায় ছয় মাস সময়ে সাংবিধানিকভাবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। বিধিবিধান অনুযায়ী তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি।

সেই সময়টায় সংবিধান অনুসারে তিনি প্রিভিলেজড ছিলেন, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ কিংবা এ বিষয়ে আদালতে কোনো মামলা করা যায় না। এর বহির্ভূত কোনো সময়ে যদি কেউ কোনো বক্তব্য দিয়ে থাকে, সেটিতে তাদের স্বাধীনতা আছে। তবে আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বিষয় এখানে দেখিনি। যারা তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেটির অধিকার আছে। গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে আমাদের প্রত্যাশা ছিল মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, সেটা আছে। এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। তবে আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য সেখানে নেই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুযায়ী সব সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন এবং তার প্রটেকশনের জন্য এসএসএফ ও পিজিআরসহ ছয় মাসের একটি বিধান আছে। এ ছাড়াও পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা থেকে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন অনুযায়ী যেসব সুবিধা রয়েছে, তার সব সুবিধা তিনি পাবেন।

হামিদ-সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল রোববার পৃথকভাবে এসব অভিযোগ করে বাংলাদেশ আজাদ পার্টি ও রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিযোগগুলো তো আমি পড়ে দেখিনি। একটা দিয়েছে আজাদ পার্টি। আরেকটা দিয়েছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগ আমাদের কাছে এলে আমরা সাধারণত তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠিয়ে দিই। এ ক্ষেত্রেও আমার কাছে উপস্থাপিত হলে সেটা আমি তদন্ত সংস্থায় পাঠিয়ে দেব। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’

এদিকে, অভিযোগ দায়েরের পর আজাদ পার্টির আহ্বায়ক সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল হাসিনুর বলেন, ‘সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এত মানুষ মারা গেলেও রাষ্ট্রের তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারতেন; কিন্তু সে সময় তিনি কোনো ভূমিকা রাখেননি।’

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত আয়নাঘর, গুম-খুন ইত্যাদির বিষয়ে তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। এসব অপরাধে তার মৌন সম্মতি ছিল, তাই এই অভিযোগ করা হয়েছে।ব্রিফিংকালে তিনি আরও জানান, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা গণহত্যা ছাড়াও গুম-খুনসহ বাংলাদেশে যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, এই ঘটনাগুলোর সময় আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন। আইনজীবীরা প্রায়ই একটি কথা বলে থাকেন—সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি। অর্থাৎ, একটি গণহত্যার সময় সেখানে রাষ্ট্রের বা দলের সর্বোচ্চ যে ব্যক্তি থাকেন, তার ওপর মূলত ওই অপরাধের দায় বর্তায়। এসডিএফের অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকার তদন্তের দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দাখিল করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)।

অভিযোগে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মো. আয়াস দাবি করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় এবং আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিতে বাধ্য করা হয়। পরদিন তাকে কারওয়ান বাজার-বাংলামটর এলাকায় ফেলে রেখে যাওয়া হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আয়াস বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলি বর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, খুন-গুমের হুকুমদাতা হিসেবে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ভূমিকার প্রেক্ষাপটে যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তার কোনো আইনগত দায় বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অনিয়মের তদন্ত করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করা হবে না জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে কোনো আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম তদন্তের সময় তার বা অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তাকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিগতভাবে আলাদা কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালনার পরিকল্পনা বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই।

তবে মুখপাত্র জানান, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তদন্ত চলমান রয়েছে। এসব তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম কিংবা সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হলো আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনিয়মের তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তদন্তে যারই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তার ক্ষেত্রেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসলামী ব্যাংকের ৮০ হাজার কোটি টাকা শেয়ার কেলেঙ্কারিতে সরাসরি জড়িত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্স। এই মর্মে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সম্প্রতি বিএফআইইউ হাইকোর্টে এ প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালত এ বিষয়ে দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির গত শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আগামী বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে জেএমসি বিল্ডার্সের মনোনীত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে বহাল ছিলেন এবং এই সময়কালের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৪টি কোম্পানি মিলে ৮০ হাজার কোটি টাকা লোন নেয়। ২৪টি কোম্পানির একটি হলো রাষ্ট্রপতির কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্স। ওই টাকা এখনো ইসলামী ব্যাংককে পরিশোধ করা হয়নি।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।