etcnews
ঢাকাMonday , 27 July 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি
box ad 6
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিয়ম ভাঙার দৌড়ে রাইড শেয়ারিং নীতিমালার বাস্তবায়ন নেই

etcnews
July 27, 2026 9:44 am
Link Copied!

আট বছর আগে যাত্রীসেবাকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার যে উদ্দেশ্যে ‘রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা-২০১৭’ প্রণয়ন করা হয়েছিল, বাস্তবে তার অনেক শর্তই কার্যকর হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানকে সেবা পরিচালনার জন্য বিআরটিএর অনুমোদনের পাশাপাশি সেবা এলাকায় নিজস্ব কার্যালয়, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ) এলাকায় নিবন্ধিত কমপক্ষে ১০০টি যানবাহন, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালক, ডিজিটাল লেনদেন, জিপিএস ট্র্যাকিং, জরুরি (এসওএস) সুবিধা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।নীতিমালায় শুধু এসব শর্তই নয়, চালকদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ, অনলাইনে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, বিআরটিএর ওয়েব পোর্টালের সঙ্গে তথ্য সংযুক্তি, প্রতিটি যাত্রার তথ্য সংরক্ষণ, পুলিশ কন্ট্রোল রুমে জরুরি বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা, অনুমোদিত পার্কিং এবং যাত্রার সম্ভাব্য ভাড়া আগেই জানিয়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আট বছর পরও এসব গুরুত্বপূর্ণ বিধানের অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়নি।
রাইড শেয়ারিং সেবা নেওয়া উপকারভোগীদের অভিযোগ, অনেক চালক অ্যাপে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ ছাড়া গন্তব্যে যেতেই চায় না। আবার অনেকেই অ্যাপ বন্ধ করে ডেকে ডেকে যাত্রী তুলে নেন। সড়কের মোড়ে মোড়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জটলা করে বাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার রেখে ট্রাফিক ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরির ফলে ভোগান্তিও এখন চরমে। যাত্রীদের অভিযোগ শুধু অতিরিক্ত ভাড়ায় সীমাবদ্ধ নয়। উবার, পাঠাও ও ওভাইয়ের বিরুদ্ধে চালকদের অসদাচরণ, নারী যাত্রীদের হয়রানি, কার্যকর এসওএস সুবিধার অভাব এবং ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশে সংরক্ষণের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

চাকরিজীবী জাহিদুল ইসলামের অভিযোগ, বর্তমান সময়ে উবার বা অন্য কোন অ্যাপস ব্যবহার করা যেন অন্ধ হয়ে একা একা রাস্তা পার হওয়ার মতোই অনিশ্চিত। তিনি বলেন, ‘একই গন্তব্যে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে।’দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ঢাকার সড়কে রাইড শেয়ারের সঙ্গে জড়িত রুবেল কালবেলাকে জানান, শুরুতে অ্যাপস ব্যবহার করে ভাড়া খাটতাম, একদিন যাত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির কারণে আমার অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেয় কোম্পানি। এরপর থেকে আট বছর হলো অ্যাপস ব্যবহার করি না। তিনি বলেন, এখন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সকালে এসে দাঁড়িয়ে থেকে ডেকে ডেকে যাত্রী তুলে নিই।

২০১৭ সালের রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালায় নির্ধারিত স্ট্যান্ড বা অনুমোদিত পার্কিং স্থান ছাড়া যাত্রী সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কোনো রাইড শেয়ারিং মোটরযানের অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রায় সারা দিনই রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির জটলা দেখা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএর একাধিক কর্মকর্তা কালবেলার কাছে অভিযোগ করে বলেন, সড়কে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উবার, পাঠাও নিজেদের মতো করে ব্যবসা করে যাচ্ছে। দেশে এদের বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নেই। নীতিমালার কোনো একটি শর্তও মানছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। যখন যেখানে সুবিধা হয় কার্যালয় সরিয়ে নিচ্ছে। সার্টিফিকেট নবায়ন না করেই রাইড শেয়ার দিয়ে যাচ্ছে মাসের পর মাস।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদন্ত বিভাগের পরিচালক মো. মাসুম আরেফিন কালবেলাকে বলেন, ‘ভোক্তা অধিকারে রাইড শেয়ারিং সেবা নামে আলাদা কোনো সেবা নেই। তবে পরিবহন সেবা ভোক্তা অধিকারের আওতায় পড়ে। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ এলে ভোক্তা অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নিতে পারে। যাত্রীরা সরাসরি বা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগ করতে পারবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা জরিমানা করা হয়।’

নীতিমালার শর্ত ভঙ্গ করে চালকদের সঙ্গে অসদাচরণ করার অভিযোগ তুলে ঢাকা রাইড শেয়ারিং ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সজিব হোসেন কালবেলাকে বলেন, নীতিমালায় চালক, মালিক ও কোম্পানির মধ্যে স্ট্যাম্প পেপারে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির কথা থাকলেও বাস্তবে অনলাইনের “টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস” গ্রহণের মাধ্যমেই চুক্তি সম্পন্ন করা হচ্ছে। অধিকাংশ চালক না বুঝেই এতে সম্মতি দেন।

তিনি আরও বলেন, ‘উবারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সার্ভার দেশের বাইরে থাকায় আমাদের অভিযোগের তৎক্ষণাৎ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না প্রতিষ্ঠান। তাই রাইড শেয়ারিংকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং চালকদের ট্রেড ইউনিয়নের আওতাভুক্ত করার মাধ্যমে কাজের সুনির্দিষ্ট অধিকার, কমিশন কমানো এবং প্ল্যাটফর্মগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা রোধে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

ঢাকা রাইড শেয়ারিং ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হালিম তালুকদারের অভিযোগ, বিআরটিএ নতুন ভাড়া কাঠামোর উদ্যোগ নিলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। তবে এই সুযোগে কোম্পানিগুলো নিজেদের মতো ভাড়া নির্ধারণ করায় চালকদের ওপর অতিরিক্ত কমিশনের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, কম্পানিগুলো চালকদের তাদের কর্মচারী মনে করে এ কারণেই অ্যাপস বন্ধ করে ট্রিপ মারার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর বাইরে যারা রাইড শেয়ারিং পরিচালনা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দৃশ্যমান কর্তৃপক্ষ নেই।

এ বিষয়ে বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কালবেলাকে বলেন, ‘বর্তমানে বিআরটিএর তালিকায় ১৯টি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান থাকলেও সড়কে মূলত তিন থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান সক্রিয়। অনেক প্রতিষ্ঠান শুরুতে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট পেলেও নীতিমালায় নির্ধারিত ১০০টি যানবাহনের শর্ত পূরণ করতে না পারায় চূড়ান্ত সার্টিফিকেট পায়নি।’তিনি বলেন, ‘বিআরটিএর ডাটাবেজ অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার যানবাহন রাইড শেয়ারিংয়ের সঙ্গে নিবন্ধিত রয়েছে। এর মধ্যে উবারে ২৬ থেকে ২৭ হাজার এবং পাঠাওতে ৫ থেকে ৬ হাজার যানবাহন রয়েছে। তিনি নিজেই একটি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, সড়কে দীর্ঘদিন ধরে ইনড্রাইভ নামের একটি প্রতিষ্ঠান রাইড শেয়ার পরিচালনা করছে কোনো অনুমোদন ছাড়া। আমরা বিটিআরসির মাধ্যমে অ্যাপ বন্ধের চেষ্টা করছি, তবে ব্যবহারকারীরা ভিপিএন বা পুরোনো অ্যাপ ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন; যেটা অন্যায়।’

বিআরটিএর পরিচালক বলেন, ‘যারা নীতিমালা অনুসরণ করবে না বা এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নবায়ন করবে না, তাদের বিরুদ্ধে নোটিশ প্রদান এবং প্রয়োজন হলে লাইসেন্স (সার্টিফিকেট) বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি অবগত নই। সবকিছু জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রযুক্তিনির্ভর, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নিয়ে রাইড শেয়ারিং চালু হয়েছিল, সে লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে জানতে চাইলে বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান কালবেলাকে বলেন, ‘দেশে রাইড শেয়ারিং সেবাকে চালক এবং কোম্পানিগুলো পেশায় রূপান্তর করে নিয়েছে। এটি তো পেশা হতে পারে না। নীতিমালার কোথাও এটিকে পেশা বলা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালের নীতিমালায় চালকদের প্রশিক্ষণ ও অ্যাপ ব্যবহারের নিয়ম শেখানোর কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানগুলো সেবার চেয়ে ব্যবসায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। সেই সঙ্গে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভার বিদেশে এবং দেশে ডাটা ওয়্যারহাউস না থাকায় তথ্য অপব্যহারের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। পর্যাপ্ত গবেষণা ছাড়া নীতিমালা প্রণয়ন, পার্কিং ব্যবস্থাপনার অভাব এবং বিআরটিএর তদারকির ঘাটতিও বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ।’ তিনি বর্তমান নীতিমালা পুনর্মূল্যায়ন, চালক-যাত্রীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে না পারা বিআরটিএর চরম ব্যর্থতা, অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়। তিনি বলেন, কার্যকর তদারকির অভাবে অনুমোদন পাওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান মাঠে টিকে থাকতে পারেনি। এর সুযোগে উবার ও পাঠাও বাজারে একচ্ছত্র অবস্থান তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিদেশে ব্যবহারকারীদের তথ্য সংরক্ষণের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’ প্রতারণার শিকার হলে যাত্রীদের অভিযোগ করতে এবং বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব অনুপস্থিত থাকায় এই বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘রাইড শেয়ারিং নীতিমালা হালনাগাদের কাজ চলছে। বিদ্যমান নীতিমালাকে সময়োপযোগী করে রাইড শেয়ারিং সেবা আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’তিনি জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান বাস্তবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে না, তাদের বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর যেসব প্রতিষ্ঠান সেবা দিচ্ছে, তাদের নীতিমালা মেনে পরিচালিত হতে হবে। তবে সরকার কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চায় না; বরং সবাইকে আইনের আওতায় এনে সুশৃঙ্খলভাবে সেবা নিশ্চিত করতে চায়।

রাইড শেয়ারিং খাতের চালকদের ট্রেড ইউনিয়নের আওতায় আনার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি আলোচনায় এলে তা বিবেচনা করা হবে।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য ড. মো. আখতারুজ্জামান তালুকদার কালবেলাকে বলেন, ‘প্রতিযোগিতা কমিশন বিচারকের আসনে কাজ করে। আপনাদের পর্যালোচনা বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখবে কমিশন, কোনো অপরাধের আলামত আছে কি না।’

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা না গেলে এই খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। কার্যকর তদারকি, জবাবদিহি এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত না হওয়ায় যাত্রী নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা অনেকাংশে অসম্পূর্ণ থেকেই যাবে।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।