etcnews
ঢাকাTuesday , 21 July 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি
box ad 6
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরান সংকটে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিন ফের ৪ ডলারের ওপরে

etcnews
July 21, 2026 12:46 pm
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম ৪ ডলারের ওপরে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির বাজারেও।
সোমবার প্রকাশিত আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সাধারণ মানের প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম এখন ৪ ডলারের সামান্য বেশি। এক সপ্তাহ আগেও এই দাম ছিল প্রায় ১৩ সেন্ট কম। আর গত বছরের একই সময়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল ৩ দশমিক ১৪ ডলার।বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন উত্তেজনাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তির লক্ষ্য ছিল সংঘাত কমানো এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা। চুক্তির পর কিছু সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কমেছিল।কিন্তু সেই পরিস্থিতি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান হামলা আরো জোরদার করে। এর জবাবে ইরান ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয় এবং তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দেয়। বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে।তাই ওই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৬ থেকে ৯১ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করেছে। অথচ জুলাইয়ের শুরুতে এই দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।অপরিশোধিত তেলই গ্যাসোলিন তৈরির প্রধান কাঁচামাল। তাই তেলের দাম বাড়লে শেষ পর্যন্ত পেট্রলের দামও বাড়ে। তবে এর প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে পাম্পে দেখা যায় না। কারণ শোধনাগারগুলো আগে থেকেই তেল কিনে মজুত রাখে এবং সেই তেল প্রক্রিয়াজাত হয়ে বাজারে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যে অবশ্য গ্যাসোলিনের দাম এক নয়। কর, পরিবহন ব্যয় এবং সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে একেক জায়গায় একেক রকম দাম দেখা যায়। এএএর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল প্রায় ৫ দশমিক ৫০ ডলার, যা দেশটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি। হাওয়াইয়ে ছিল ৫ দশমিক ৪২ ডলার এবং ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ছিল ৫ দশমিক ০১ ডলার। অন্যদিকে, ইন্ডিয়ানায় প্রতি গ্যালনের গড় দাম ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩৫ ডলার। মিসিসিপিতে ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৫৭ ডলার।

চলমান সংঘাতের কারণে গত কয়েক মাস ধরেই তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা চলছে। মার্চ মাসে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এক সময় প্রতি ব্যারেল প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। তখন প্রতি গ্যালনের দাম ছিল ৪ দশমিক ৫০ ডলারেরও বেশি। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে চলতি মাসের শুরুতে জাতীয় গড় দাম কমে ৩ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমে আসে। তবে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে।

জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষও। সোমবার শিকাগোর বাসিন্দা লিটজা মাভরোথালাসিটিস গাড়িতে জ্বালানি নিতে এসে বলেন, তার গাড়িতে প্রায় জ্বালানি শেষ হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, আবারও এত দ্রুত দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি অবাক হয়েছেন। তার ধারণা ছিল, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। একই শহরের আরেক বাসিন্দা জ্যাকব ফিশার বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণগুলো তাকে ক্ষুব্ধ করছে। তার মতে, ইরানে চলমান যুদ্ধের কোনো প্রয়োজন ছিল না এবং বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের পদক্ষেপে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র বা বিশ্বের কারোই উপকার হচ্ছে না।

এদিকে পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে হোয়াইট হাউসেরও। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়ার আগে বারবার কম গ্যাসোলিনের দামের কথা বলেছিলেন। গত মাসেও তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও সেই তুলনায় গ্যাসোলিনের দাম কমছে না, যা তাকে হতাশ করেছে।কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে শান্তির উদ্যোগ ভেঙে পড়েছে। নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে জ্বালানির বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামনে যদি সংঘাত আরও বাড়ে, তাহলে তেলের দাম আরো বাড়তে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দামও আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির বাড়তি দাম মার্কিন ভোটারদের জন্য বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে আবারও প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম ৪ ডলারের ওপরে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে এবং এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোক্তা ও গাড়িচালকদের ওপর।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।