সাহিত্য, সংস্কৃতি, গবেষণা ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি জানাতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক কবি ও সাহিত্যিক পরিষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য গুণীজন সংবর্ধনা ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান।
শুক্রবার দিন ব্যাপী সেগুনবাগিচাধীন বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি ও গবেষক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক, গবেষক ও গীতিকার অধ্যাপক অনিক রহমান বুলবুল। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক কবি ও সাহিত্যিক পরিষদের চেয়ারম্যান, কবি, গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কবি, সাহিত্যিক, গবেষক ও গীতিকার নাদিয়া আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এ টি এম ফারুক, খোন্দকার জিল্লুর রহমান, কাজী আলম, মো. খোরশেদ আলম এবং লুৎফর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন অধ্যাপক ফেরদৌসি আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। গুণীজনদের সম্মানিত করার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধের চর্চা আরও সমৃদ্ধ হবে এবং নতুন প্রজন্ম সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হবে।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক অনিক রহমান বুলবুল বলেন, যারা নীরবে সাহিত্য, সংস্কৃতি, গবেষণা ও মানবকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা সমাজের দায়িত্ব। তিনি বলেন, গুণীজনদের সম্মান জানানো মানে জাতির মেধা, মনন ও সৃজনশীলতাকে সম্মান জানানো।
প্রধান আলোচক মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি একটি মানবিক, শান্তিপূর্ণ ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। তিনি সৃজনশীল চর্চা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। সাহিত্য অনুষ্ঠানে কবি সাহিত্যিকদের রেজিস্ট্রেশন করে কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা থেকে তিনি নিরুৎসাহিত করেন । তিনি আরো বলেন পরবর্তীতে প্রাজ্ঞ বিচারক প্যানেলের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সাহিত্যে ঈর্ষণীয় অবদান রেখে যাওয়া সম্মানিত গুণিজনদের সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হবে। মনোনীত গুণিজনদের ঢাকায় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য পূর্বেই বিকাশ নাম্বারে যাতায়াত খরচ পাঠিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ঢাকায় থাকা-খাওয়ার সুবিধার্থে অগ্রিম হোটেল বুকিং দিয়ে রাখা হবে এবং সম্মাননা হিসেবে প্রথাগত ক্রেস্ট না দিয়ে সম্মানীত সকলকে প্রাইজবন্ড নয়তো নগদ টাকা সহ আকর্ষণীয় গিফট বক্স প্রদান করা হবে।
প্রধান বক্তা অধ্যাপক ফেরদৌসি আহমেদ বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে বইপড়া, গবেষণা ও সাহিত্যচর্চার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী করে তুলতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, গুণীজনদের স্বীকৃতি নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে নাদিয়া আহমেদ বলেন, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্যে সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ, গবেষণা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক কবি ও সাহিত্যিক পরিষদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীজনদের সম্মানিত করার মাধ্যমে সৃজনশীল মানুষদের কাজের স্বীকৃতি যেমন নিশ্চিত হয়, তেমনি নতুন প্রজন্মও অনুপ্রাণিত হয়।
অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি স্বর্ণপদক, আজীবন সম্মাননা, গ্রন্থ সম্মাননা, আবৃত্তি সম্মাননা, সেরা গীতিকার সম্মাননা, সেরা সংগঠক সম্মাননা, সেরা সংগঠন সম্মাননা, সফল আদর্শ পিতা সম্মাননা, রত্নগর্ভা মা সম্মাননা এবং সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কবি ফররুখ স্মৃতি সম্মাননাসহ বিভিন্ন সম্মাননা দেশ ও বিদেশের ১৬২ জন প্রখ্যাত ও প্রথিতযশা গুণীজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা এবং বিদেশ থেকে আগত কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, গীতিকার, আবৃত্তিশিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সমাজসেবীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মিলনায়তন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

