etcnews
ঢাকাThursday , 25 June 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি
box ad 6
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশ বিশ্বস্ত বন্ধু চীনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী: প্রধানমন্ত্রী

etcnews
June 25, 2026 10:07 am
Link Copied!

বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া চীনকে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ উল্লেখ করে দেশটির সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে শিগগিরই চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ খোলার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে চীনের বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ শীর্ষক সম্মেলনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় উপস্থিত ছিলেন চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের চেয়ারম্যান রেন হংবিন।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বহু দশকের একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এটি আস্থা, শ্রদ্ধা এবং বাস্তব সহযোগিতার একটি সম্পর্ক। বিগত বছরগুলোতে এই সম্পর্ক কূটনীতি থেকে উন্নয়নে, উন্নয়ন থেকে বাণিজ্যে এবং এখন বাণিজ্য থেকে আরও গভীর শিল্প অংশীদারত্বে রূপান্তরিত হয়েছে।’

বাংলাদেশ এক বিশাল অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের যাত্রাপথের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি।’প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং আমাদের অন্যতম দীর্ঘদিনের ও বিশ্বস্ত বন্ধু চীনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।’চীন বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে উপরের দিকে উঠছে। চীনা কোম্পানিগুলো উন্নত উৎপাদন, উচ্চ-মূল্যের অবকাঠামো এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। চীন যখন সাফল্যের সিঁড়িতে উপরের দিকে উঠবে, তখন উৎপাদন ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ নতুন, প্রতিযোগিতামূলক এবং বিশ্বস্ত স্থানের সন্ধান করবে। বাংলাদেশ সেই স্থানগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্মেলনে চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে তাদের ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণের জন্য আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনা কোম্পানিগুলোকে বৈশ্বিক বাজারে পরিষেবা দিতে সাহায্য এবং একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বৃহৎ অভ্যন্তরীণ চাহিদা থেকে লাভবান হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এটি উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সম্পর্ক হবে উল্লেখ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কথার সঙ্গে কাঠামোগত পদক্ষেপের মিল থাকতে হবে। আমাদের অঙ্গীকার প্রদর্শনের জন্য, আমার সরকার আন্তর্জাতিক পুঁজি সংক্রান্ত কার্যপ্রণালীকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে একটি কঠোর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’

‘এই পরিকল্পনার মাধ্যমে সরাসরি আমলাতান্ত্রিক জড়তাকে মোকাবেলা করছি। স্বচ্ছতা, পূর্বাভাসযোগ্যতা এবং গতি বাড়ানোর জন্য আমরা দীর্ঘমেয়াদী নীতির ধারাবাহিকতা উন্নত করছি, একাধিক নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া হ্রাস করছি এবং সরকারি পরিষেবাগুলোকে ডিজিটাইজ করছি,’ যোগ করেন তারেক রহমান।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বৈষম্যহীন আচরণ দূর করতে বাংলাদেশের আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী মূলধন ও লভ্যাংশ ফেরত এবং শক্তিশালী আইনি সুরক্ষারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষায়িত শিল্প অবতরণ কেন্দ্র তৈরির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যার মধ্যে আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মংলায় একটি দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত। এই স্থানগুলো লজিস্টিকস, বন্দর সংযোগ, পরিষেবা, কর্মী, সরবরাহকারী এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী ইকোসিস্টেম প্রদান করে।’

চীনের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি উন্নত করার জন্যও কাজ করছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যেন বিনিয়োগকারীরা আরও শক্তিশালী আস্থা, সুস্পষ্ট সুরক্ষা এবং বিনিয়োগের জন্য একটি আরও আধুনিক কাঠামো পেতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শীর্ষ বিনিয়োগ প্রচার সংস্থা বিডার এখন চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষায়িত সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ডেস্ক রয়েছে। আপনারা যেমন দেখেছেন, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষায়িত ওয়েবসাইটও রয়েছে, যাতে বিভিন্ন খাতের সুযোগ, প্রণোদনা এবং প্রক্রিয়াগুলো আরও সহজে পাওয়া যায়।’

শিগগিরই চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ খোলা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য খুবই সহজ। চীনা বিনিয়োগকারীদের সহায়তা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। আমরা আপনাদের আরও কাছাকাছি থাকতে, আপনাদের সঙ্গে আরও নিয়মিত কথা বলতে এবং আগ্রহ থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে আপনাদের সাহায্য করতে চাই।’বৃহত্তর বিনিয়োগ পরিকাঠামো উন্নত করার কথাও জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘সরকার একটি নতুন লাইসেন্স অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে, যার ফলে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ দিনেরও কম সময়ে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।’

বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ফার্মাসিউটিক্যালস ও স্বাস্থ্যসেবা, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল পরিকাঠামো, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উন্নত বস্ত্রশিল্পের মতো আমাদের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য খাত-ভিত্তিক প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধা ঘোষণার বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন আরও সহজে, আত্মবিশ্বাসের ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বাংলাদেশে আসতে পারে তা নিশ্চিত করার এসবের উদ্দেশ্য বলে সম্মেলনে জানান তিনি।

চীনকে পরবর্তী ‘এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময়’ রচনায় অংশীদার হতে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক চীনা বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তারা আমাদের জনগণ, আমাদের সহনশীলতা ও আমাদের সম্ভাবনা সম্পর্কে বলতে পারেন। তারা আপনাদের বলতে পারেন যে, বাংলাদেশ সফল হতে পারে।’

এই অঞ্চলের সুযোগগুলোকে বাংলাদেশ ও চীন উভয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদী টেকসই প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধিতে রূপান্তরের সংকল্পও ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।