etcnews
ঢাকাMonday , 15 June 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি

বেনজীরকে দেশে আনা নির্ভর করবে ৩ বিষয়ের ওপর: শিশির মনির

etcnews
June 15, 2026 4:45 pm
Link Copied!

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে শক্তিশালী আইনি প্রস্তুতি, সঠিক তথ্য উপস্থাপন এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।সোমবার (১৫ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া: একটি সারসংক্ষেপ’ শীর্ষক এক পোস্টে তিনি এ মতামত তুলে ধরেন।শিশির মনির বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এর দুবাইয়ে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার, জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় বিচার করতে আগ্রহী।

বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বর্তমানে কোনো কার্যকর প্রত্যর্পণ চুক্তি (এক্সট্রাডিশন ট্রিটি) নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে ২০১৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ও ইউএই-এর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা দুই দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও বিচারিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি তৈরি করে। এই চুক্তিগুলো হলো—নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি, দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের স্থানান্তর সংক্রান্ত চুক্তি।পোস্টে সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী জানান, নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় সন্ত্রাসবাদ দমন, মানবপাচার প্রতিরোধ, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান রোধ, অপরাধসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান এবং জনশক্তি নিয়োগে অনিয়ম প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়। অন্যদিকে বন্দি স্থানান্তর চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশের নাগরিকদের নিজ দেশে সাজা ভোগের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।কোনো বাংলাদেশি যদি ইউএই-এর কোনো আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হন, তাহলে তিনি বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয়ে তার সাজা ভোগ করতে পারবেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরা এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন না। স্থানান্তরের পর এসব বন্দি তাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সহজে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। চুক্তি অনুযায়ী, বন্দিদের প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত ব্যয় দুই দেশ যৌথভাবে বহন করতে পারবে,’ যোগ করেন শিশির মনির।

পোস্টে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ আইন, ১৯৭৪-এর কথাও উল্লেখ করেন শিশির মনির। তিনি বলেন, যদিও এসব চুক্তি সরাসরি প্রত্যর্পণ চুক্তি নয়, তবুও এটি দুই দেশের বিচারিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তার ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করে। তাছাড়া, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ আইন, ১৯৭৪-এর সেকশন ৩ অনুযায়ী যদি বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকে, তাহলে সেই অনুযায়ী অপরাধী আদান-প্রদান করা যাবে। আর সেকশন ৪ অনুযায়ী যদি কোনো দেশের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি না-ও থাকে, তবুও সরকার চাইলে সেই দেশের সঙ্গে উক্ত আইন অনুযায়ী প্রত্যর্পণ করতে পারবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের বরাতে সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী আরও জানান, ইউএইর সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে।

‘এ ক্ষেত্রে প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব প্রস্তুত ও অনুমোদন করবে। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সেটি ইউএই কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো ইউএই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করবে,’ পোস্টে যোগ করেন তিনি।

প্রত্যর্পণ আবেদনে অত্যন্ত শক্তিশালী নথিপত্র উপস্থাপন করতে হয় উল্লেখ করে শিশির মনির আরও বলেন, যেমন- আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এফআইআর, চার্জশিট অথবা তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ, অভিযুক্তের পরিচয় ও নাগরিকত্বের তথ্য, অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ, প্রাসঙ্গিক আইন ও শাস্তির বিধান, আদালতের আদেশ, প্রত্যর্পণের আইনি ভিত্তি, অবৈধ সম্পদ, অর্থপাচার বা দুর্নীতির অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণাদি।

শিশির মনিরের মতে, প্রত্যর্পণ আবেদনের পর ইউএই’র আদালত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরীক্ষা করতে পারে । প্রথমত, অভিযোগকৃত অপরাধগুলো ইউএই’র আইনেও অপরাধ কি না। এই নীতিকে বলা হয় ‘ডুয়াল ক্রিমিনালিটি’। দ্বিতীয়ত, আদালত পরীক্ষা করতে পারে মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না। বাংলাদেশকে প্রমাণ করতে হবে যে বেনজির আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নয়; বরং একটি বৈধ ও স্বাভাবিক বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। তৃতীয়ত, বাংলাদেশকে দেখাতে হবে যে দেশে ফিরিয়ে আনার পর তিনি ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ বিচার পাবেন এবং তার মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

তিনি অতীতের কিছু প্রত্যর্পণ উদাহরণও তুলে ধরেন। ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে যথাযথ নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সহযোগিতা থাকলে সফল প্রত্যর্পণ সম্ভব বলেও মত দেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার দুই আসামি আরিফ সরকার ও মুহসীন মিয়াকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার ঘটনাকে সফল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে শিশির মনির লেখেন, ‘ইন্টারপোল রেড নোটিশের মাধ্যমে প্রত্যর্পণের একটি সফল উদাহরণ হলো নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা মো. হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলা। পিবিআই কর্তৃক মামলাটি তদন্তের সময় আসামি আরিফ সরকার ও মুহসীন মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং পরবর্তীতে ইন্টারপোলের সহায়তায় রেড নোটিশ জারি করা হয়। এরপর গত বছরের জুলাই মাসে প্রথমে মোহসিন মিয়াকে দুবাই থেকে ইন্টারপোলের সহায়তায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তার দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আসামি আরিফ সরকারের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে ইন্টারপোল রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ আরিফ সরকারকে গ্রেপ্তার করে এবং বাংলাদেশকে বিষয়টি জানায়। এরপর বাংলাদেশ পুলিশ ও পিবিআই এর একটি স্পেশাল টিম তাকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনে। দেশে পৌঁছানোর পর তাকে মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।’

সবশেষে ‘আসামি বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর’ উল্লেখ করে পোস্টে এ আইনজীবী বলেন, ‘নিখুঁত ও শক্তিশালী আইনি নথিপত্র, অভিযুক্তের পরিচয় ও মামলার তথ্যের নির্ভুল উপস্থাপন এবং ধারাবাহিক ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা। এই তিনটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সফল হলে বেনজির আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার সম্ভব হবে।’

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।