etcnews
ঢাকাSaturday , 1 August 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি

মোবাইল অপারেটরদের সেবার মান যাচাইয়ে কঠোর বিটিআরসি

etcnews
August 1, 2026 1:17 pm
Link Copied!

গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় মোবাইল অপারেটরগুলোর সেবার মান (কিউওএস) আরও নিখুঁতভাবে যাচাই করতে ‘ড্রাইভ টেস্ট’ পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নতুন এ কিউওএস ড্রাইভ টেস্ট পদ্ধতি চালু হলে মোবাইল নেটওয়ার্কের ভয়েস ও ডাটা সেবার মান আরও কঠোর ও বাস্তবভিত্তিক মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সম্প্রতি বিটিআরসির এক বিশেষ সভায় অনুমোদিত কোয়ালিটি অব সার্ভিসেস ডাইরেক্টিভস বা সেবার মান নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনো অপারেটর নির্ধারিত মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্ক বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে আইন অনুযায়ী আর্থিক জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নতুন এ কিউওএস ডিরেক্টিভসে মোবাইল সেবার মান পরীক্ষার জন্য চার ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এনএমএস), টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম (টিএমএস), নির্দিষ্ট এলাকায় ভ্রমণকালীন ড্রাইভ-টেস্ট ও স্পট ড্রাইভ-টেস্টের মাধ্যমে এ মান যাচাই করা হবে। বিটিআরসির নতুন এ নিয়ম অনুযায়ী, সব মোবাইল ফোন অপারেটরকে প্রতি মাস শেষ হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে নেটওয়ার্কভিত্তিক, বিভাগীয় ও উপজেলাভিত্তিক এনএমএস রিপোর্ট জমা দিতে হবে। অপারেটরদের দেওয়া এ তথ্য বিটিআরসি তাদের নিজস্ব টেলিকম মনিটরিং সিস্টেমের (টিএমএস) তথ্যের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করবে এবং প্রতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে।
নতুন এ নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট রুট ছাড়াও দেশের যে কোনো স্থানে যে কোনো সময় গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে বা কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্তে স্পট টেস্ট, ওয়াক টেস্ট বা নির্দিষ্ট এলাকায় বিটিআরসি ড্রাইভ-টেস্ট পরিচালনা করতে পারবে। আর টিএমএস সিস্টেমে পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক মনিটরিং তথ্য প্রদান না করলে অথবা কোনো উপযুক্ত কারণ ছাড়া সেবার মান নির্ধারিত বেঞ্চমার্কের নিচে পাওয়া গেলে লাইসেন্সের শর্ত ও কিউওএস ডিরেক্টিভসের আওতায় সংশ্লিষ্ট অপারেটরের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এতে আরও বলা হয়, দেশের ৪জি মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে আধুনিক সার্ভার ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডাটা সংগ্রহের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। বিটিআরসি আগে শুধু পূর্বনির্ধারিত রুটে পরীক্ষা চালালেও, নতুন নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে বা নিজস্ব উদ্যোগে দেশের যে কোনো স্থানে যে কোনো সময় ড্রাইভিং টেস্ট পরিচালনা করতে পারবে। এ ছাড়া অপারেটরদের নেটওয়ার্কের তথ্য সরাসরি বিশ্লেষণ করে যেসব এলাকায় সেবা দুর্বল বা খারাপ, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে নির্দিষ্টভাবে পরিদর্শনের নতুন ব্যবস্থা অনুমোদন করা হয়েছে।ড্রাইভ টেস্টের আওতায় বিটিআরসির প্রকৌশলীরা বিশেষ সরঞ্জাম সজ্জিত যানবাহনের মাধ্যমে গ্রাহকদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কল ড্রপ, ডেটা স্পিড বা ইন্টারনেটের গতি, সিগন্যালের শক্তি, নেটওয়ার্ক কভারেজ এবং নেটওয়ার্কের লেটেন্সি বা বিলম্ব পরীক্ষা করে থাকেন। এর মধ্যে বড় ফাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেটের গতি পরীক্ষা, হাইওয়েতে যানবাহনের গতি বৃদ্ধি, অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক টেস্ট করা হবে। এ ছাড়া অপারেটরদের নেটওয়ার্কের তথ্য সরাসরি বিশ্লেষণ করে যেসব এলাকায় সেবা দুর্বল বা খারাপ, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে নির্দিষ্টভাবে পরিদর্শনের নতুন ব্যবস্থা অনুমোদন করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ডাউনলোডের প্রকৃত এবং ধারাবাহিক গতি সঠিকভাবে পরিমাপ করতে টেস্ট ফাইলের আকার ৩০ মেগাবাইট থেকে বাড়িয়ে ৫০ মেগাবাইট করা হয়েছে। তবে আপলোডের গতি মাপার ফাইল সাইজ ১০ মেগাবাইটই থাকছে। এক্সপ্রেসওয়ে বা মহাসড়কে ভ্রমণের সময় গ্রাহকরা কেমন নেটওয়ার্ক পান, তা পরীক্ষা করতে ড্রাইভ টেস্টের গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা ৫০ কিমি থেকে বাড়িয়ে ৮০ কিলোমিটার করা হয়েছে। তবে সাধারণ রাস্তার ক্ষেত্রে গাড়ির গতি আগের মতোই ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার থাকছে।

কিউওএস নির্দেশনা বলছে, নতুন নিয়মে কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (কেপিআই) ন্যূনতম ডেটা স্যাম্পল ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০ করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষার ফল আরও নির্ভুল হয়। এর ফলে সাধারণ ড্রাইভ-টেস্টে রিপোর্টের জন্য অন্তত ৫০০টি কল বা ৫০০ কিলোমিটার পথ কাভার করতে হবে। এ ছাড়া ডাটার ক্ষেত্রে প্রতিটি কেপিআইর জন্য সর্বনিম্ন ৫০০টি স্যাম্পল সংগ্রহ করতে হবে। ভয়েস কলের মানদণ্ডের ক্ষেত্রে একটি কলের স্থায়িত্ব হবে ৯০ সেকেন্ড, সঙ্গে ২০ সেকেন্ড ওয়েটিং টাইম এবং ১২০ সেকেন্ডের কল উইন্ডো রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ভয়েস কোয়ালিটি বা এমওএস (এমওএস) পরিমাপ করা হবে। এ ছাড়া নতুন পদ্ধতিতে কারিগরি বা টুলসের কোনো ত্রুটির কারণে কল ড্রপ হলে কিংবা সার্ভার সমস্যার কারণে ডাটা সেশন ড্রপ করলে, তা অপারেটরদের সঠিক ‘কজ কোড’ ও যুক্তিসহ বিটিআরসিতে জমা দিতে হবে। বিটিআরসি নিয়মিতভাবে এগুলো পর্যালোচনা করে তবেই চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করবে।

এ বিষয়ে বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন (ইঅ্যান্ডও) বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ কালবেলাকে বলেন, টেলিকম ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং উন্নতির পাশাপাশি তাদের সেবার মান পরীক্ষা করা রেগুলেটরের দায়িত্ব। সাম্প্রতিক সময়ে জারিকৃত কোয়ালিটি অব সার্ভিসেস ডাইরেক্টিভস এবং মেথডলোজির মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরসহ আইএসপি, এনটিটিএন এবং পিএসটিএনসমূহের গ্রাহক সেবার মান যাচাই করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নেটওয়ার্কসহ সেবার মানদণ্ড পরিমাপে বিটিআরসির সক্ষমতা বেড়েছে। তাই আগের চেয়ে গ্রাহক সেবার মান বাড়ানোর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নেওয়া হবে। আর যথাযথ কারণ ছাড়া যে কোনো নিয়মের ব্যত্যয়ের জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কমিশন জানিয়েছে, সেবার মান নিশ্চিত করতে কীভাবে পরিমাপ ও যাচাই করা হবে, তা এ প্রক্রিয়ায় সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এটি দেশের সাড়ে ১৮ কোটিরও বেশি মোবাইল সংযোগ ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ও সেবা উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন (ইঅ্যান্ডও) বিভাগের পরিচালক ড. মো. সোহেল রানা স্বাক্ষরিত এ নতুন নিয়মাবলি জারির ফলে ২০২১ সালে জারি করা এ-সংক্রান্ত পুরোনো নির্দেশিকাটিও বাতিল করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘বিটিআরসি কর্তৃক কোয়ালিটি অব সার্ভিসেস নির্দেশিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়াকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ধরনের অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ একটি বাস্তবসম্মত, স্বচ্ছ এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা কাঠামো প্রণয়নে সহায়ক হবে, যা দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে সেবার মান আরও উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে সেবার মান মূল্যায়ন ও প্রয়োগ প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ এবং সব অপারেটরের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হয় সেই দাবি জানিয়েছেন আরেক মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান। কালবেলাকে তিনি বলেন, গ্রাহকদের জন্য সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর ও স্বচ্ছ মানদণ্ড নির্ধারণ এবং তার ধারাবাহিক মূল্যায়নকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে যে কোনো মূল্যায়ন ও প্রয়োগ প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ, তথ্যভিত্তিক, প্রযুক্তিগত বাস্তবতা বিবেচনাপ্রসূত এবং সব অপারেটরের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হয়।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।