etcnews
ঢাকাThursday , 21 May 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি

কোরবানির গোশত ৩ ভাগ করা কি জরুরি

etcnews
May 21, 2026 2:12 pm
Link Copied!

ইসলামে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের ওপর কোরবানি একটি ওয়াজিব বিধান। ইরশাদ হয়েছে, ‘অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।’ (সুরা কাওসার: ২)তাই প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজন-অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। (আলমুহিতুল বুরহানি: ৮/৪৫৫, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ১৭/৪০৫)

হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যার কোরবানি করার সামর্থ্য আছে অথচ সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।’ (মুসনাদে আহমদ: ২/৩২১, মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৬৩৯, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব: ২/১৫৫)

কোরবানি করতে হবে আল্লাহকে খুশি করার জন্য। কোরবানিতে আল্লাহ শুধু মানুষের নিয়ত দেখেন। তাকওয়া দেখেন। যার তাকওয়া যত বেশি, সে আল্লাহর নৈকট্য পাবে তত বেশি। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কোরবানির পশুর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না। আল্লাহর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।’ (সুরা হজ: ৩৭)

পশু জবাই আল্লাহর জন্য হলেও এর গোশত খাওয়া আমাদের জন্য বৈধ করে দিয়েছেন তিনি। রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘তা থেকে তোমরা নিজেরা খাও এবং হতদরিদ্রদের খাওয়াও।’ (সুরা হজ: ২৮)

তবে, আমাদের দেশে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে, কোরবানির গোশত তিন ভাগে বণ্টন করা জরুরি। সামান্য ত্রুটি হলে কোরবানি হবে না। কেউ কেউ এটাও মনে করেন যে, গোশত বণ্টন হতে হবে মেপে মেপে। তিন ভাগের ওজনই সমান হতে হবে, কমবেশি চলবে না। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের ভাষ্যমতে বিষয়টি মোটেও ঠিক নয়।

এ প্রসঙ্গে ইসলামি স্কলার মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজি বলেন, ‘কোরবানির গোশত তিন ভাগে বণ্টন করা জরুরি নয়। কোরবানিদাতা চাইলে নিজে সব গোশত খেতে পারবে। চাইলে সব সদকা করে দিতে পারবে। তবে তিন ভাগে বণ্টন করা উত্তম।’

‘তিন ভাগে বণ্টন করলে এক অংশ নিজে খাবে। এক অংশ আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের দেবে। আর এক অংশ সদকা করবে।’ (রদ্দুল মহতার: ৯/৪৭৪, বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২২৪)

ইসলামি গবেষণা পত্রিকা মাসিক আল-কাউসারে বলা হয়েছে, ‘কোরবানির গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রে উত্তম হলো, তিন ভাগ করে এক অংশ সদকা করা, এক অংশ আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও গরিব প্রতিবেশীকে দেওয়া। আর এক অংশ নিজের জন্য রাখা। এটি একটি মুস্তাহাব ও উত্তম আমল; তবে ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় নয়।’

‘কিন্তু অনেক মানুষ মনে করে, কোরবানির গোশত তিন ভাগে বণ্টন করা জরুরি এবং এতে সামান্য ত্রুটি করলেও কোরবানি হবে না। সাথে এটাও মনে করে, এ বণ্টন হতে হবে মেপে মেপে। এ তিন ভাগ ওজনে সমান হতে হবে, কোনো কমবেশি চলবে না। স্পষ্ট কথা যে, এমন ধারণা ঠিক নয়।’

হাদিসে এসেছে, ‘রাসুল (সা.) কোরবানির গোশত তিন ভাগ করে একভাগ নিজ পরিবারকে খাওয়াতেন। এক ভাগ প্রতিবেশীদের দিতেন ও এক ভাগ অভাবীদের মধ্যে সদকা করতেন।’ (মিরআত, ৫/১২০, ইবনে কুদামা: ১১/১০৮-১০৯)

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।