নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহাল করে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার (১১ মে) সর্বোচ্চ আদালত রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করে।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করে, জামায়াতের গঠনতন্ত্র সংশোধন ও নিবন্ধনের বিষয়টি যখন নির্বাচন কমিশনে প্রক্রিয়াধীন ছিল, তখনই রিট আবেদন করা হয়েছিল, যা আইনগতভাবে অপরিপক্ক ছিল।
আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, রিট আবেদনকারীরা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হিসেবে প্রমাণ করতে পারেননি। বরং ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকে রিটটি দায়ের করা হয়েছে বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণে বলে, হাইকোর্ট বিভাগ জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে গত বছরের ১ জুন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে। সোমবার সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।
২০০৮ সালের নভেম্বরে নির্বাচন কমিশন জামায়াতকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দেয়। পরে ২০০৯ সালে সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ জন ওই নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন। শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়।
পরবর্তীতে দলটি আপিল করলে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শেষে আপিল বিভাগ গত বছর নিবন্ধন পুনর্বহালের রায় দেয়। পরে দেরি মার্জনা করে আপিল ও লিভ টু আপিল পুনরুজ্জীবনের আবেদন মঞ্জুর করা হয় এবং ধারাবাহিক শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে।

