মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ইরানের পারস্য উপসাগরীয় সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা (ইস্টার্ন টাইম), যা ইরানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট, থেকে এই সামরিক অভিযান শুরু হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই অবরোধ পতাকা নির্বিশেষে সব ধরনের জাহাজ চলাচলের ওপর প্রযোজ্য। এর আগে নাবিকদের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থাকেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানের বাইরে গন্তব্যে যাওয়া জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ দিয়ে স্বাভাবিক ট্রানজিট চলাচল সরাসরি বন্ধ না হলেও, ওই এলাকায় সামরিক উপস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরান আলোচনায় ফিরুক বা না ফিরুক, তাতে তার কোনো আগ্রহ নেই। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকটি ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। তবে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় দুই দেশের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আরও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, চুক্তি থেকে তারা মাত্র ‘কয়েক ইঞ্চি’ দূরে ছিলেন। তবুও শেষ পর্যন্ত আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অবরোধ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এসএসকে/

