১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে আওয়ামী লীগের সমর্থনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘জনতার মঞ্চ’ ব্যানারে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। সচিবালয়সহ সারা দেশে কর্মরত আওয়ামীপন্থি কয়েকশ সরকারি আমলা আন্দোলনে সমর্থন জোগায়। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে ক্ষমতা ছেড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ‘জনতার মঞ্চের’ সেই ফর্মুলা ফের কাজে লাগিয়ে এবার মাঠে ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ। এজন্য দলটির প্রেসক্রিপশনে নতুন করে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠিত হয়েছে বলে দাবি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার। গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্ল্যাটফর্মে দেড় শতাধিক সাবেক ও বর্তমান আমলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যুক্ত হয়েছেন। সংগঠনটি গত ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করলে তা ভন্ডুল করে আলোচকদের কয়েকজনকে কিছু লোক মব সৃষ্টি করে পুলিশে দেন।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জনতার মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত থাকা সাবেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে যে ফৌজদারি মামলা হয়েছিল, তা আবারও চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে মামলা চালু করতে সলিসিটর উইংয়ে চিঠি পাঠিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। জনতার মঞ্চে অংশ নেওয়া ২০৯ জনের একটি তালিকাও প্রস্তুত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান ও ভূঁইয়া মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ছাড়াও সাবেক সচিব ও আওয়ামী লীগের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এবং সাবেক সচিব সিরাজ উদ্দিন আহমেদসহ দেড় শতাধিক আমলা ওই মঞ্চে অংশে নিয়েছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জনতার মঞ্চের সেই কুশীলবরা ফের সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। তারা ভিন্ন নামে মাঠে নামতে চান। এরই অংশ ‘মঞ্চ ৭১’। এ প্ল্যাটফর্মের আড়ালে জনতার মঞ্চ অনুসরণ করেই আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরাতে চান তারা। এ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা কালবেলাকে বলেন, ‘মঞ্চ ৭১-এর আড়ালে জনতার মঞ্চের সেই কর্মচারীরা ফের মাঠে নামছেন কি না, আমার জানা নেই। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের জনতার মঞ্চে যাওয়া একেবারেই উচিত হয়নি। নতুন করে কোনো মঞ্চেও তাদের যাওয়া উচিত নয়। তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। এ ধরনের মঞ্চে যোগদান করলে তা নিঃসন্দেহে সরকারদ্রোহী হয়।

