স্টাফ রিপোর্টার :
উত্তরা বিমান দুর্ঘটনার পরও শিক্ষা উপদেষ্টা বা সংশ্লিষ্ট কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে না যাওয়ায় এবং দুর্ঘটনার পরপরই পরীক্ষা বাতিল না করে রাত তিনটার দিকে তা ঘোষণা করায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এর প্রতিবাদে গত ২১ জুলাই সোমবার, সকালে রাজধানীতে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।
প্রথমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সেখান থেকে জানানো হয়, উপদেষ্টা, সচিব বা উচ্চ পর্যায়ের কেউ সেখানে নেই এবং সিদ্ধান্ত নিতে হলে সচিবালয়ে যেতে হবে। পরে শিক্ষার্থীরা হঠাৎ সচিবালয়ের দিকে রওনা দেয় এবং মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সামনের অংশে ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ মজিবুর রহমানের সরকারি গাড়ির ওপর হামলা চালায়। গাড়িটি রক্ষায় এগিয়ে আসেন চালক সোহেল মিয়া। তিনি বাধা দিতে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর করে।
পরবর্তীতে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তার ডান হাত ভেঙে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে।
আহত চালক সোহেল মিয়া বলেন,
“ছাত্ররা গাড়ি ভাঙচুর করতে এলে আমি বাধা দিই। তখন তারা দল বেঁধে আমাকে মারধর করে। পরে হাসপাতালে যেতে হয়। আমার হাত ভেঙে গেছে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, বিক্ষোভে কিছু নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠনের বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরাও যুক্ত ছিল। তারা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান,
“যদি প্রমাণ মেলে যে এই হামলা পরিকল্পিত ছিল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সম্পদ ও কর্মচারীদের উপর হামলার দায় কেউ এড়িয়ে যেতে পারবে না।”
সচিবালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ঘটনার বিচার দাবি করা হয়েছে।

