জামদানি দিয়ে এখন তৈরি হচ্ছে নতুন ধাঁচের পোশাক। তবে ঐতিহ্যবাহী নকশা করা শাড়ির প্রতিও আগ্রহ দেখাচ্ছেন তরুণ প্রজন্ম। বিশেষ দিনে সাজার সময় জামদানি শাড়ি বেছে নিচ্ছেন তাঁরা।
একসময় জামদানির প্রয়োগ সীমাবদ্ধ ছিল শাড়িতে। এরপর আসে কামিজ, ওড়না কিংবা পাঞ্জাবির মতো পরিচিত পোশাকে। কিন্তু এখন সেই গণ্ডি ভেঙে নানা রকম আধুনিক ও সৃজনশীল পোশাকে রূপ নিচ্ছে জামদানি।
ডিজাইনারদের নানামুখী পরীক্ষা–নিরীক্ষায় তৈরি হচ্ছে নতুন ধারা, নতুন আঙ্গিক। এমনকি অনেকেই মা, নানি বা দাদির পুরোনো জামদানি শাড়িকে নতুনভাবে ব্যবহার করে বানাচ্ছেন সমসাময়িক পোশাক; ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিলমিশে প্রোজ্বল হচ্ছে টেকসই ফ্যাশন। তথাপি সব পরিবর্তনের মধ্যেও শাড়ি তার নিজস্ব মহিমায় অটুট।
ইদানীং কিশোরী ও তরুণীদের মধ্যে জামদানি শাড়ি পরার আগ্রহ ঐতিহ্যের প্রতি নতুন করে আস্থা জাগাচ্ছে। প্রশ্ন জাগে, এই ইতিবাচক অথচ পরিবর্তনশীল প্রবণতা কি আমাদের ফ্যাশন ডিজাইনার বা ব্র্যান্ডগুলোর দৃষ্টিতে পড়ছে? যদি পড়ত, তবে হয়তো আমরা আরও পরিকল্পিত উদ্যোগ দেখতে পেতাম।
তরুণদের মধ্যে জামদানি শাড়ির প্রতি আকর্ষণ ক্রমে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে; একে বলা যেতে পারে নীরব, অথচ গভীর সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ। পয়লা বৈশাখের বিকেলে দুই তরুণীকে দেখেছিলাম অপূর্ব লাল-সাদা জামদানি শাড়িতে। মনে হয় দুই বোন।
পরিপাটি করে পরা, নিখুঁত ভঙ্গিতে বহন করা; দৃষ্টি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আটকে যায় ওদের দিকে। এমন দৃশ্য যে প্রতিদিন চোখে পড়ে তা নয়; তবে মাঝেমধ্যে যখন দেখা মেলে, তখন স্পষ্টতই অনুভব করি জামদানির প্রতি টান এখন আর কেবল প্রজন্মান্তরের ঐতিহ্যবাহী নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; তরুণ প্রজন্মও সমানভাবে মুগ্ধ।
ইতিহাসের পাতা ওলটালে দেখা যায় জামদানির জন্মকালে শাড়ির প্রচলন আজকের মতো ছিল না। নবাব-বাদশাহ কিংবা তাঁদের পরিবারের নারীরা শাড়ি নয়, গজ কাপড় ব্যবহার করতেন। সেই সময়ের সাধারণ মানুষের পক্ষে জামদানি পরা ছিল প্রায় অসম্ভব বিলাসিতা; এ কথা আজও পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না।
তবে সময় বদলেছে, রুচি বদলেছে, সেই সঙ্গে বদলেছে জামদানির ব্যবহারও। তরুণদের উপযোগী করে জামদানি শাড়ি তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন নতুন বাজার তৈরি হতো, অন্যদিকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতো এই ঐতিহ্যবাহী শাড়িকে।
এর জন্য শিল্পমান বা ঐতিহ্যের সঙ্গে আপস করার প্রয়োজন নেই। বরং জামদানির চিরায়ত মোটিফগুলোকে নতুন বিন্যাসে সাজিয়ে, একটু ভিন্ন লে-আউট তৈরি করলেই তা হয়ে উঠতে পারে আরও গ্রহণযোগ্য।

