পবিপ্রবি প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) গ্রিন ফোরামের আয়োজনে ‘ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সেমিনার কক্ষে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের স্মরণে আলোচনা করা হয়।
গ্রিন ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মামুন-উর-রশিদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. সুজাহাঙ্গীর কবির সরকার। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুল লতিফ, গ্রিন ফোরামের নেতৃস্থানীয় শিক্ষকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পবিপ্রবি শাখার সভাপতি মো. রেদোয়ান ইসলাম, সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পবিপ্রবি শাখার সভাপতি মো. রেদোয়ান ইসলাম বলেন, “জুলাই ছিল কেবল একটি আন্দোলন নয়; এটি ছিল ইনসাফ, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং বিভিন্নভাবে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের শিক্ষা হলো অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা এবং বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম অব্যাহত রাখা।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুল লতিফ বলেন, “মুসলিম হিসেবে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে নামা আমাদের ওপর আরোপিত একটি দ্বীনি ও ঈমানি দায়িত্ব ছিল। ইসলাম জুলুমের অবসান ঘটিয়ে সমাজে আদল ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়। আমাদের কাছে জুলাই আন্দোলন কোনো ক্ষমতা দখলের লড়াই ছিল না; বরং অত্যাচারী শাসকের সামনে দাঁড়িয়ে সত্য উচ্চারণ, মজলুমের পাশে দাঁড়ানো এবং মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ঐতিহাসিক প্রয়াস ছিল।”
গ্রিন ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মামুন-উর-রশিদ বলেন, “জুলাইয়ের চেতনাকে কেবল স্মরণসভা কিংবা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে সমাজের সর্বস্তরে ন্যায়, ইনসাফ, জবাবদিহিতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
/কানিজ/মুশতাক

