পবিপ্রবি প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছভুক্ত লেভেল-১, সেমিস্টার-১-এ ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নুরুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ড. আমিনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, আবাসন, গ্রন্থাগার, গবেষণাগার, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে একটি পরিচিতিমূলক মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “তোমরা বিদ্যালয় ও কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তবুদ্ধি চর্চার অঙ্গনে প্রবেশ করেছ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেবল একটি সনদ অর্জনের জন্য নয়; এটি জ্ঞান অন্বেষণ, যুক্তিবাদী চিন্তার বিকাশ, কুসংস্কারমুক্ত মনন গঠন এবং সত্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্র।”
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে বাসভাড়া ফ্রি করা হয়েছে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং হবে না। সময়ানুবর্তিতা, নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, গ্রন্থাগারের কার্যকর ব্যবহার এবং শিক্ষকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক একজন শিক্ষার্থীর সফলতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।”
উপাচার্য আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা, স্বেচ্ছাসেবা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”
অনুষ্ঠানে রেজিস্ট্রার (অ. দা.) অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন, কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম. জহুরুল হক, ফিশারিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল হক, এএনএসভিএম অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবদুল মালেকসহ বিভিন্ন হলের প্রভোস্টরা বক্তব্য দেন।

