পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান উদীয়মান ও আন্তঃদেশীয় হুমকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে আসিয়ান এবং এর অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ব্যাপারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির (ট্রিটি অব অ্যামিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন-টিএসি) ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মারক অনুষ্ঠানে তিনি এ অঙ্গীকার করেন।গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। খবর বাসসের। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহামারি, জলবায়ুজনিত অভিঘাত, সাইবার হামলা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন মোকাবিলায় বৈশ্বিক সক্ষমতা জোরদারে বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
খলিলুর রহমান বলেন, যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, অভিন্ন ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা কাঠামো এ ধরনের চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর সাইবার অপরাধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলার উপায়ও তুলে ধরেন।
পাঁচ দশক আগে স্বাক্ষরিত টিএসি চুক্তিতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনার নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি। বাংলাদেশ ২০০৭ সালে টিএসিতে যোগ দেয় এবং এর মাধ্যমে আসিয়ানের নীতিভিত্তিক কাঠামোর সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়া প্রথম দিকের দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর একটি হয়।
টিএসির ৫০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানের ফাঁকে ড. খলিলুর রহমান চিলি, নেদারল্যান্ডস ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সরবরাহ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বৈধ অভিবাসন এবং সার্কুলার ইকোনমিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে ৩৩তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে ম্যানিলা সফর করছেন।

