টানা তিন দিন ধরে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রামে। নগরীতে টানা ভারী বর্ষণে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। কোথাও কোথাও তলিয়ে গেছে সড়ক। কোথাও হাঁটুসমান আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে বিপর্যস্ত জনজীবন। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ পথচারীরা।
এদিকে, পাহাড়ি এলাকার মানুষজনকে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে এখন পর্যন্ত নগরের কাতালগঞ্জ, বাদামতলী, কাপাসগোলা, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, চান্দগাঁও, মোহরা, চকবাজার, হালিশহর, পতেঙ্গা, বন্দর ও উত্তর আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। নিচু এলাকায় কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে গেছে। অনেকের বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়েছে।বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ বশির আহমদ জাগো নিউজকে বলেন, মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যেখানে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি ছিল। তিনি বলেন, বৃষ্টি একটু কমেছে। তবে এখনো ভারী বৃষ্টির আভাস আছে। বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে।মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কে জমে থাকা পানিতে অনেকের মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। কিছু এলাকায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিভিন্ন বাসস্টপে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যে রওয়ানা দেন।জলাবদ্ধতার কারণে কয়েকটি এলাকায় সড়ক ও নালার পার্থক্য বোঝা যাচ্ছিল না। এতে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। অনেক অভিভাবককে সন্তানদের কোলে নিয়ে কিংবা কাঁধে তুলে জলাবদ্ধ সড়ক পার হতে দেখা যায়।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

