বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে আবারও বড় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। ইসরায়েলের নতুন করে লেবাননে হামলা এবং ইরানে বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার নতুন করে অশান্তি শুরু হয়েছে। এরপরই সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়েছে।
সোমবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ তাবরিজ ও ইসফাহানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট দ্রুত শেষ হওয়ার আশা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
এদিন গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী ৩টা ৩৩ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ২৪ ডলারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম উঠে ৯৩ দশমিক ৪১ ডলারে।
এর আগে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনের আশা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম কমেছিল। তবে নতুন করে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কায় সেই পতন পুরোপুরি পুষিয়ে গেছে। মার্চের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।রোববার ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা এখনো সম্ভব।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নতুন হামলা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে তিনি বলেন, “এটি চুক্তিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। সিদ্ধান্ত আমি নিই, নেতানিয়াহু নয়।”
এদিকে ইরান জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা না হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো শান্তি চুক্তি হবে না। গত মার্চে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর হামলার পর লেবাননে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। পরে জুনের শুরুতে ওয়াশিংটনে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। যদিও আগের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি রেখেছে।এই পরিস্থিতির মধ্যেই ওপেক প্লাস জোট রোববার টানা চতুর্থবারের মতো তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির সংকট এবং রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে এই বাড়তি উৎপাদনের বাস্তব প্রভাব খুব সীমিত হবে।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক হোর্হে লিওন বলেন, “বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রভাব প্রায় শূন্যের কাছাকাছি থাকবে।”

