নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, প্রশাসনিক বৈষম্য, আর্থিক অনিয়ম এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে রূপালী ব্যাংক জিয়া পরিষদ। গত ৪ জুন জমা দেওয়া ওই স্মারকলিপিতে তার অপসারণ, বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ব্যাংকের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
রূপালী ব্যাংক পিএলসি জিয়া পরিষদের আহ্বায়ক মো. গোলাম সরোয়ার, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক এএসএম নিয়াজ মোর্শেদ এবং সদস্য সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ব্যাংকের প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের পদায়ন, পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং ভিন্নমতের কর্মকর্তাদের দূরবর্তী শাখায় বদলির অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।
জিয়া পরিষদের স্মারকলিপিতে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলা নং-০৬ এবং সিআর মামলা নং-৬৩/২৫-এর এজাহারভুক্ত আসামি কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এমডি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পদায়ন করেছেন। এর ফলে প্রশাসনে একটি পক্ষপাতমূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং ভিন্ন মতাদর্শের কর্মকর্তারা পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত রূপালী ব্যাংক প্রায় ৫৮৭ কোটি টাকার লোকসানে পড়েছে। দীর্ঘদিন লাভজনক অবস্থানে থাকা ব্যাংকটির এমন আর্থিক অবনতির জন্য বর্তমান ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা, দুর্বল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অনিয়মকে দায়ী করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএসডি-৪ (উইং-১) বিভাগের ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের তদন্ত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে অভিযোগ করা হয়, গুলশান করপোরেট শাখার মাধ্যমে মাসটেক্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা ও অডিট আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তৎকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, রূপালী সদন করপোরেট শাখার সাবেক প্রধান সাখাওয়াত হোসেন বিধিবহির্ভূতভাবে ২৪টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। পাশাপাশি এসএমই বিভাগে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকা কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বলা হয়, সাবেক এমডির এপিএস শফিকুর রহমানকে নিজের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) এবং মাহমুদুল হাসান টুটুলকে এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেন কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম। তাদের মাধ্যমে পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্য পরিচালিত হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মানবসম্পদ বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ইউনিটে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদায়নের কারণে পদোন্নতি ও বদলি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ শাখা ও বিভাগে পদায়ন এবং ভিন্নমতের কর্মকর্তাদের দূরবর্তী শাখায় বদলির ঘটনাও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে।
ব্যাংকের ক্রীড়া ও প্রশিক্ষণ খাতেও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্যতম বার্ষিক আয়োজন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৫ ও ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত না হলেও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন কার্যক্রম ও ব্যয়ের নিরপেক্ষ নিরীক্ষার দাবিও জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

