বিশেষ প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাটলী এলাকায় ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত চাল-ডাল আত্মসাতের অভিযোগে নতুন করে একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গড়ে ওঠা একটি চক্র এখনও বিভিন্ন নামে-বেনামে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কাটলীর বাসিন্দা ও ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন বিগত সরকারের আমলে ওএমএস ডিলারশিপের আড়ালে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, গরিব ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকার নির্ধারিত কম মূল্যের চাল ও ডাল প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে বিক্রি না করে অধিক মুনাফার আশায় খোলা বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হতো।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নাজিম উদ্দিন আত্মগোপনে চলে যান। এরপর তার আপন ভাতিজা রবিউল হোসেন হৃদয় ওই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন । একই পদ্ধতিতে চাচার মতো ভাতিজা রবিউল অধিক মুনাফার আশায় খোলা বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে।
স্থানীয় সূত্র দাবি করেন, রবিউল হোসেন হৃদয় নিজেকে ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও তার কোনো আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক পদ-পদবি খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং বিএনপির বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার ছবি ব্যবহার করে ব্যানার ও প্রচারণার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবের ধারণা তৈরি করে তিনি সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে পরিচয় গোপন রবিউল হোসেন হৃদয় প্রশাসন, থানা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মাসোহারা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন বলে জানা যায় । এছাড়া তিনি নিজেকে দেশের একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচয় দিয়ে চলছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রবিউল হোসেন হৃদয়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজরে আনলে তিনি অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, “সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী আত্মসাৎ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উত্তর কাটলী এলাকায় স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ওএমএস কর্মসূচির খাদ্যপণ্য প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
তবে উল্লিখিত সব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

