ইটিসি নিউজের বৈশাখী আয়োজনে প্রকাশিত হলো কবি উপল বড়ুয়ার ৫ কবিতা-
আমার প্রতিভা
পার্শ্বচরিত্রের ভূমিকায় কেটে গেল জীবন
আজ রাতে জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে বুঝলাম
এই আমার প্রতিভা; নির্জীব এবং বিভাহীন।
এটুকু বুঝেই ভোর হওয়ার আগে বিরামহীন
হাঁটছি। আজ কোনো বন্দুক নিয়ে আসিনি
সমস্ত পাখি ও পশুদের ছেড়ে দিয়ে এসেছি
অথচ তারাই এখন আমাকে মুখ ভ্যাঙাচ্ছে!
এক পাখি বলছে, ‘বানিয়ে বানিয়ে আর কত
গল্প বলবে?’ পশুদের মধ্যে সে তো শেয়ালও
বলে। পাখিদের মধ্যে কোকিল ও কাকাতুয়া
আমি কি বলেছি এ জঙ্গল অস্তিত্বহীন, ভুয়া!
আমার ঘরের পাশেই বন, বনই আমার কাবা
ঘুরতে ঘুরতে মনে পড়ল, বন আমার প্রতিভা৷
একা একটি বন্দুক
চলে যাচ্ছি—
পেছনে পড়ে আছে চুনতি অভয়ারণ্য
কয়েকটা দিন এখানেই কাটল একা
বন্দুক কাঁধে হরিণের পিছু পিছু।
এখানে চৈত্রের রাতে মুমূর্ষুরা জাগে
মহুয়া ফুটলে দলে দলে হরিণেরা ডাকে
আমি নিয়েছি তাদের পিছু।
অথচ আজ ভরা বন্দুক নিয়ে ফিরছি
একটা হরিণ তো দূর পাখিও ডাকেনি
বানর মারেনি চোখ।
এমন ব্যর্থতা নিয়ে ফিরে যাচ্ছি
ফিরে যাচ্ছে আমার ভরা বন্দুক।
জঙ্গল এক জার্নি
জঙ্গল এক জার্নি—
অনেক ঘুরে দেখেছি
তারপরও যেন যাইনি
কোথাও, সবুজ ছাড়া
এই উড়ো মন বসেনি
কোনো টেবিলে, পড়েনি
স্কুলে। বেহুদা জঙ্গলে
জঙ্গলে ঘুরে শুনেছে
ঝরা পাতাদের গল্প
কীভাবে বাঘের পায়ে
বাজে মর্মর, হরিণের
খুরের ঘর্ষণে আগুন
লাগে। বুনো মোষের
শিংয়ে গেঁথে যায় ধান।
মহুয়া ফলের নেশায়
আমি বহুবার ভরদুপুরে
হারিয়েছি পথ, হারানো
যায় বলেই জঙ্গলে আসি।
জঙ্গল এক জার্নি—
জীবনে শুধু এটুকু জানি।
বিষণ্ন বসন্তে
বিষণ্ন বসন্ত চলে এলো—
এবারও কি আমাদের মিস
হবে জঙ্গলে যাওয়ার ট্রেন?
ছুটি নাও কয়েকদিন; তারপর
চলো যাই সিলেটের পাহাড়ে
অথবা শেরপুরের জঙ্গলে।
এতো ব্যস্ততা জমেছে হৃদয়ে
তোমার মুখ ভুলে গেছি, ঘরে
ফেরার পথও বিস্মৃত আজ
মনে পড়ে শুধু এক দুপুরে বনে
নিশ্চুপ হেঁটেছিলাম অকারণে।
আপাতত থাক ওসব কথা, চলো
যাওয়া যাক তবে; এই শহর ছেড়ে
দূরে—হরিণের খুর যেখানে ফেলেছে
ছাপ; বুনো হাতি দল মাড়িয়ে গেছে
বসন্তের ঝরা পাতা।
চশমা
চশমা এক অভ্যাস—
দৃষ্টিসীমার দূরে দাঁড়িয়ে ভাবছি
এত অস্পষ্টতা নিয়ে লিখছি সবকিছু
যেন কিছুই জানি না, বুঝি না
বিহ্বল তাকিয়ে থাকা ছাড়া।
এসব ভাবনার পাশে একটি নদী
বয়ে যায়, শান্ত ও গীতল
এসব যাত্রার পাশে ব্লেডের তীক্ষ্ণতায়
বনের ভেতর দিয়ে চলেছে ট্রেন
আর কোথাও পাতা ঝরার খবর আসে।
আমি যেন কিছুই দেখি না, ভাবি
চশমা এক দায়িত্ব
আমি নই দূরদর্শী।

