বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ৮ আসনের প্রার্থী ওসমান হাদীকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে এই ঘটনাকে গুরুতর অশনিসংকেত হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি এসব সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান।
তিনি অনতিবিলম্বে হাদির উপর হামলাকারী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করার দাবি জানান।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকালে নারায়ণগঞ্জে আলী আহমেদ চুনকা পৌর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত পার্টির কর্মী ও শুভার্থী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সামনে জমে থাকা কালো মেঘ আপাতত কেটেছে। আগামী ফেব্রুয়ারীতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে যে অনিশ্চিয়তা ছিল দৃশ্যত তারও অবসান ঘটেছে। তিনি বলেন, দেশের জনগণের বিপুল প্রত্যাশার এই নির্বাচন ও গণভোট দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসাবে চিহ্নিত হবে।
তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন করা যাবে কিনা সেটা নির্ভর প্রধানত সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপরে। সরকার যদি নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও জনগণকে আস্থায় নিতে পারে।তাহলে ভালো নির্বাচন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে এই নির্বাচন নিয়ে জনমনে ততই সংশয়, উদ্বেগ এবং আশংকা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা, সভা সমাবেশকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা সংঘঠিত হচ্ছে তা রীতিমত আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতিরই প্রমান। কোন কোন এলাকায় অবৈধ আগ্নেয়াশ্রের মহড়া চলেছে, গোলাগুলির মত ঘটনাও ঘটে চলেছে ।
অবাধ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বাধা হলো কালো টাকার খেলা । আগে যে মনোনয়ন পত্রের জামানত ছিল কুড়ি হাজার টাকা, সেটা বাড়িয়ে এবার পঞ্চাশ হাজার টাকা করা হয়েছে, আর নির্বাচনী ব্যয় যেখানে পঁচিশ লক্ষ টাকা নির্ধিরিত করা ছিল সেটাও বাড়িয়ে যা করা হয়েছে তাতে আগামীতে সৎ এবং দেশপ্রেমিক মানুষের পক্ষে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা চলতে দিলে অতীতের মত আগামী জাতীয় সংসদ কালো টাকার মালিক, ব্যবসায়ী আর রাজনৈতিক – অর্থনৈতিক মাফিয়াদের ক্লাবে পরিনত হবে।এটা হবে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলসমূহের বিরাট পরাজয়।

