ডিআইইউ প্রতিনিধি:
দেশে ক্লিনিক্যাল গবেষণার মানোন্নয়ন, দক্ষ গবেষক তৈরি ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলাদেশ একাডেমি অব ক্লিনিক্যাল রিসার্চ সোসাইটি’। গবেষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলন আয়োজনের পাশাপাশি গবেষণার নৈতিক মান নিশ্চিত করতে কাজ করবে সংগঠনটি।
গত ১৩ অক্টোবর সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০-এর অধীনে সংগঠনটির নিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্য খাতের গবেষকদের দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে গবেষণা পদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা, পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ রচনা এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ।
বিশেষ করে তরুণ চিকিৎসক ও নবীন গবেষকদের গবেষণার প্রশ্ন নির্ধারণ থেকে শুরু করে উপযুক্ত গবেষণা পদ্ধতি নির্বাচন, তথ্য বিশ্লেষণ ও ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এ ছাড়া গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও অবহিত সম্মতি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেবে সংগঠনটি। বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা নৈতিকতা কমিটি গঠন ও পরিচালনার উদ্যোগও রয়েছে।
সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. শাহ মো. আহসান শহীদ গবেষণার গুণগত মান নিশ্চিত করতে গবেষকদের পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ ও গবেষণা নৈতিকতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এ. এন. এম. মোজাম্মেল হক জানান, গবেষকদের দক্ষতা উন্নয়নে পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, কর্মশালা ও গবেষণা সহায়তামূলক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী সদস্য মো. হাসিবুল হাসান বলেন, গবেষণাকে শুধু একাডেমিক প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ, নিরাপদ খাদ্য, পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধে গবেষণাভিত্তিক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদের জন্য বৈজ্ঞানিক তথ্য তৈরিতেও কাজ করবে সংগঠনটি।
এদিকে দেশের গবেষকদের আন্তর্জাতিক পরিসরে যুক্ত করতে দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং গবেষণাপত্র প্রকাশের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির।
পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মেলন, সেমিনার, কর্মশালা ও ওয়েবিনার আয়োজন করা হবে। এসব আয়োজনে তরুণ গবেষকদের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির কথাও জানিয়েছে সোসাইটি।
সংগঠনটির কর্মকর্তারা জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, গবেষণার নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে একটি গবেষণাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দেশের ক্লিনিক্যাল গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণালব্ধ জ্ঞান জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চান তাঁরা।
/কানিজ/ঋতু

