জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক, লেখক মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহর বিরুদ্ধে দায়ের করা ৯ বিয়ে ও যৌতুকের মামলায় আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন। মামলাটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে মুফতী মিছবাহ বলেছেন, অভিযোগগুলোর পক্ষে বাদীপক্ষ যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি। তবে মামলার অভিযোগ ও পাল্টা দাবিগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।
গত ২০ আগস্ট তাঁর স্ত্রী হুমায়রা জান্নাত ওরফে নাঈমা যৌতুক আইনের ৩ ধারায় সিএমএম আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় তিনি মুফতী মিছবাহর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, কাবিন রেজিস্ট্রি না করা এবং ১০ আগস্ট রাতে মারধর করে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগ আনেন।
অন্যদিকে মুফতী মিছবাহ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁদের বিয়ে ২৯ মে ২০২১ তারিখে কাবিন রেজিস্ট্রির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাঁর দাবি, এ সংক্রান্ত কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে তাঁকে ৯টি বিয়ের কথা বলা হলেও বাদীর বিভিন্ন বক্তব্যে বিয়ের সংখ্যা নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে।
মুফতী মিছবাহর আরও দাবি, ১০ আগস্ট রাতে মারধর ও যৌতুক দাবির অভিযোগও সঠিক নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিনের সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর চলাচলের ভিন্ন তথ্য রয়েছে। মামলার কয়েকজন কথিত সাক্ষীও অভিযোগ অস্বীকার করে ভিডিও বক্তব্য দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এছাড়া ২০২০ সালের একটি অভিযোগের সঙ্গে কুতুবখালী স্টিল ভবনের প্রসঙ্গ যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান মুফতী মিছবাহ। তাঁর দাবি, ভবনটি ২০২৪ সালে উদ্বোধন হওয়ায় ২০২০ সালের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ২০২০ সালে নাঈমার দেওয়া একটি হলফনামা ও পরবর্তী বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান মামলার কিছু অভিযোগের অসঙ্গতি রয়েছে।
মুফতী মিছবাহ অভিযোগ করেন, তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করছে। তাঁর দাবি, এ ঘটনায় তাঁর কোম্পানির বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। পাশাপাশি তাঁর দেড় বছরের সন্তান আফরাদ বিন মিছবাহর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

