তমালিকা কর্মকারের মঞ্চে ফেরার গল্পটা এবার একটু অন্যরকম। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা এই অভিনেত্রী প্রথমবারের মতো দেশটির মঞ্চে অভিনয় করতে যাচ্ছেন। আগামী ৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ার জেফারসন স্ট্রিটের ‘সিটি অব আলেকজান্দ্রিয়া-লি সেন্টার’-এ মঞ্চস্থ হবে তার অভিনীত নাটক ‘অমানুষ’। নাটকটির প্রযোজনায় রয়েছে ‘সূচনা থিয়েটার’।বাংলাদেশের নাটক, সিনেমা ও মঞ্চের পরিচিত মুখ তমালিকার মঞ্চে অভিষেক হয়েছিল ১৯৯২ সালে আরণ্যকের হয়ে। মামুনুর রশীদের রচনা ও আজিজুল হাকিমের নির্দেশনায় ‘পাথর’ নাটকের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সেই যাত্রা। এরপর ‘ময়ূর সিংহাসন’, ‘জয় জয়ন্তী’, ‘রাঢ়াং’, ‘শত্রুগণ’, ‘উপরওয়ালা’, ‘ভঙ্গবঙ্গ’, ‘দ্য জুবিলি হোটেল’, ‘ইবলিশ’, ‘হেলাখেলা’ ও ‘প্রাকৃতজন কথা’সহ বহু নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।তবে ‘অমানুষ’ নিয়ে কিছুটা আবেগ ও শঙ্কা কাজ করছে তমালিকার মধ্যে। কারণ নাটকটির রচয়িতা মামুনুর রশীদ এবার তার পাশে নেই। তমালিকা বলেন, ‘অমানুষের শো হবে, অথচ আমার পাশে শ্রদ্ধেয় মামুন আঙ্কেল নেই। যে কারণে কিছুটা ভয় পাচ্ছি। তারপরও অমানুষ-করতে গিয়ে নিজের ওপর অনেক দায়িত্ব বেড়ে গেছে। আমাকে হাজার প্রতিকূলতার মাঝেই ভালো করতে হবে। যতই আমি মঞ্চে পরীক্ষিত একজন অভিনেত্রী হই না কেন, যতবার মঞ্চে পারফর্ম করতে যাব, ততবারই আমাকে দর্শকের সামনে পরীক্ষা দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মঞ্চ নাটক শুধুই বিনোদন নয়, শ্রেণি সংগ্রামের সুতীক্ষ্ণ হাতিয়ার। মঞ্চে অভিনয় করে দর্শকের কাছ থেকে যে রিঅ্যাকশনটা পাওয়া যায়, ওটাই আমার প্রবল এক নেশা। আমি এ নেশায় বারবার ডুবে যেতে চাই। ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা অমানুষ নাটকের নির্দেশক জান্নাতুল টুম্পাকে।’অমানুষ’র মূল বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে তমালিকা জানান, আজ থেকে ত্রিশ বছরের আগে একজন মামুনুর রশীদ আমাদের (বাংলাদেশের) সমাজের নানান অবক্ষয় নিয়ে এ নাটক রচনা করেছেন।

