আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে মনে করেন না প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। দলটিকে একটি ‘মাফিয়া গ্যাং’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনা আবার বুঝালো, তাদের রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে কোনোভাবে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত হবে কি না।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।উল্লেখ্য, ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে রয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে ঘুরতে গেলে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের দ্বারা হামলা ও হেনস্তার শিকার হন তিনি।
ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধনের উপরে হামলা হয়েছে, আমরা ভিডিও দেখেছি। যারা হামলা করেছেন তারা নিজেরাও ভিডিও করে পাবলিশ করেছেন। যারা এটা করেছেন তাদের একটু ধন্যবাদও দেওয়ার আছে।’এতে আওয়ামী লীগ আসলে কী এবং কারা এই দলের রাজনীতি করেন, তা আবারও জনগণের সামনে এসেছে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কী বস্তু, কারা করেন, আওয়ামী লীগ কী; তারা আমাদের সামনে আবার হাজির করছেন। আমি প্রায়ই বলতাম শেখ হাসিনা যখনই কথা বলেন, তিনি আদতে দেখান এরা কত নোংরা।’আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে মনে করেন না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল মনে করি না, এটা একটা মাফিয়া গ্যাং। এই যে মাফিয়া গ্যাং বলছি, এটার প্রমাণ হচ্ছে এটা (বাঁধনের ওপর হামলা)।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কেউ তাদের রাজনৈতিক দল বলে তাদের রাজনৈতিক এক ধরনের অধিকার আছে, রাজনীতি করবে না কেন—এই আলাপ তুলতে আসবেন। আজমেরী হক বাঁধনের উপরে যা হলো, আমার মনে হয়—এটা আবার বুঝালো ওদের আদৌ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে কোনোভাবে আমাদের মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত হবে কিনা।’
ন্যূনতম অনুশোচনা এবং ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ফিরে আসার ইচ্ছা থাকলে এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা করতেন না বলেও মনে করেন জাহেদ উর রহমান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে যা যা ঘটিয়েছেন এরপর যদি ন্যূনতম দুঃখবোধ থাকতো, যদি রাজনীতিতে ফিরে আসার উদ্দেশ্য থাকতো; এই সহিংসতাগুলো করতো না, কোনোভাবেই না।’
বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘অবশ্যই আমরা এটা ছেড়ে দেব না। এটা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’
বাঁধনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তার অর্জন সম্মান প্রাপ্তি, আওয়ামী লীগের হেনস্থা হওয়ার শিকার হওয়া, একটা মাফিয়া গ্যাং-এর শিকার হওয়া প্রমাণ করে—আপনি আসলে সঠিক পথে ছিলেন। বাঁধন তার একটা ফেসবুক লাইভে বলছিলেন, জুলাই যোদ্ধা, তখন উনি বলছেন ইয়েস আই অ্যাম।’
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অন্য কারও ওপর একই ধরনের হামলা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘একইভাবে আমরা অনেকেই সেরকম হামলার শিকার হতে পারি। বাট উই ডুন্ট কেয়ার, একেবারেই না। শেখ হাসিনাকেই কেয়ার করি নাই। ওই সময় শেখ হাসিনার ১৪ পুরুষসহ পালাতে বাধ্য করেছি, আর সেখানে কিছু মাস্তান মাস্তানি করবে, উই ডোন্ট কেয়ার। তবে আমরা ছাড়বো না নিশ্চয়ই ছাড়বো না।

