etcnews
ঢাকাMonday , 7 September 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি

৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে পিডি নিয়োগে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নয়ছয়!

etcnews
September 7, 2026 8:44 pm
Link Copied!

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা, সেচ-নদী পুনরুদ্ধার ও লবণাক্ততা মোকাবিলায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। ১৩ মে ২০২৬ একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত ধরা হয়েছে। এমন একটি মেগা প্রকল্পের পিডি নিয়োগে চলছে বাপাউবোজুড়ে চাঞ্চল্য। গত ২৭ আগস্ট এই সংস্থাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদকে পরিচালক (পিডি) দায়িত্ব দিয়ে চিঠি ইস্যু করা হয়।জানা গেছে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-২ শাখার অফিস আদেশ অনুযায়ী তিনি ফেনী পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের পিডির দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু নিয়োগের পরই প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় প্রকল্পের নেতৃত্বে তাঁকেই কেন?

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের অনুমোদিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী পিডি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গ্রেডের কর্মকর্তা না হয়েও তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) অন্তত ৬১ জন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে তাকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ এখন পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

নথি পত্রে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিচিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের পাউবো শাখার ২০২২-২৪ টার্মের ৩৪ জনের কমিটিতে হাসান মাহমুদ নির্বাহী সদস্য হিসেবে কমিটিতে আছেন।

গ্রেড ও জ্যেষ্ঠতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

বাপাউবো সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অনুমোদিত জনবল কাঠামোয় প্রকল্প পরিচালকের পদটি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় গ্রেডের জন্য নির্ধারিত বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ হাসান মাহমুদ বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, অর্থাৎ চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। বাপাউবোর সিভিল ক্যাডারের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তাঁর অবস্থান ৬২ এবং তাঁর আগে ৬১ জন কর্মকর্তা থাকার দাবি করা হয়েছে।

এখানেই মূল প্রশ্ন—যদি অনুমোদিত জনবল কাঠামোতে পিডির পদ নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তার জন্য হয়ে থাকে, তাহলে চতুর্থ গ্রেডের একজন কর্মকর্তাকে কোন বিধান ও প্রশাসনিক যুক্তিতে ওই দায়িত্ব দেওয়া হলো? বিষয়টি পরিষ্কার করতে প্রয়োজন প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি, জনবল কাঠামো, সংশ্লিষ্ট নোটশিট এবং নিয়োগের অনুমোদন প্রক্রিয়া প্রকাশ করা দরকার।
৬১ জনকে ডিঙিয়ে হাসান মাহমুদ কেন পিডি, দাবির সত্যতা কোথায়?

পিডি নিয়োগ নিয়ে বাপাউবোর প্রকৌশলীদের একটি অংশের অভিযোগ, হাসান মাহমুদের চেয়ে জ্যেষ্ঠ ৬১ জন কর্মকর্তাকে পাশ কাটিয়ে তাঁকে পিডি করা হয়েছে। বাপাউবোর জ্যেষ্ঠতা তালিকার ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান ৬২ বলা হয়েছে। যদি সত্যিই ৬১ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অতিক্রম করে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের প্রশাসনিক যুক্তি কী ছিল—এ প্রশ্নের উত্তর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাপাউবোর কাছ থেকেই আসা উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বঙ্গবন্ধু পরিষদের কমিটিতে নাম, রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

হাসান মাহমুদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও অতীত বিতর্ক রয়েছে। বাপাউবো বঙ্গবন্ধু পরিষদের ২০২২–২৪ মেয়াদের কমিটিতে হাসান মাহমুদের নাম নির্বাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। একই কমিটির তালিকায় তাঁর অবস্থান ৩০ নম্বর নির্বাহী সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছাত্রজীবন ও নিয়োগ পরীক্ষার ফল নিয়েও প্রশ্ন

হাসান মাহমুদ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে ২০০৭ সালে বাপাউবোর সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাঁর নিয়োগ পরীক্ষায় অবস্থান, কোটায় নিয়োগের দাবি কিংবা ৬৩ জনের মধ্যে তাঁর অবস্থান ৫০-এর পরে ছিল বলে অভিযোগ উঠে।

জানা গেছে, বাপাউবোর ২০০৭ সালের নিয়োগ পরীক্ষার মেধাতালিকা, কোটা-সংক্রান্ত নথি এবং নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি কাগজপত্র প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা, হাসান মাহমুদের সকল নথিপত্র সকালের সময়ের হাতে সংরক্ষিত আছে।

বগুড়ার দায়িত্বকাল—কাজ বণ্টন নিয়ে অভিযোগ

জানা গেছে, হাসান মাহমুদ ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বগুড়া পানি উন্নয়ন বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর ওই সময়ের দায়িত্ব পালন নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে (আরএফকিউ, ডিপিএমসহ) বিভিন্ন কাজ দেওয়া হয়েছিল। ‘পারিশা ট্রেড সিস্টেম’ নতুন লাইসেন্সধারী একটি প্রতিষ্ঠানকে বিপুলসংখ্যক কাজ দিয়ে মোটা অংকের কমিশন বাণিজ্য করার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।

ভোলার পাঁচ বছর—জ্যাকবের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ

হাসান মাহমুদ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২, চরফ্যাশনে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, এই সময় তৎকালীন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং কমিশন বাণিজ্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন কাজের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আছে।

পিডি নিয়োগে স্বজনপ্রীতি নাকি আর্থিকপ্রীতি

হাসান মাহমুদের পিডি নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ভাবে গুঞ্জন উঠেছে বগুড়া বাড়ি হওয়াতে হয়তো স্বজনপ্রীতি হয়েছে, নয়তো মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সমালোচনা নিয়ে দপ্তরের প্রতিটি টেবিলে কানাঘুঁষা চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ’—নিয়োগের নেপথ্যে কী?

হাসান মাহমুদের নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে—এমন দাবি রয়েছে। তার এই পিডি নিয়োগের নেপথ্যে কারা রয়েছে বিষয়টি ঘুরপাক খাচ্ছে বাপাউবোজুড়ে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে উত্তর অঞ্চলের কোনো এক প্রতিমন্ত্রীর ইশারায় এই সাবেক ছাত্রলীগের নেতা প্রকৌশলী হাসান মাহমুদকে পিডি করা হয়েছে।
আরেকটি বিশেষ সুত্রে জানা যায়, পরিকল্পনা কমিশন থেকে কিছুদিন পুর্বে পেশনে যোগদানকারী অতিরিক্ত সচিব জনাব মোহা: এনামুল সাহেব হাসান মাহমুদ, এছাড়া পানি সম্পদ সচিব মো: শাহাবুদ্দিন এবং বাপাউবোর ডিজি মো: রুহুল আমিনও এই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরের পক্ষে কাজ করেছেন এবং তাদেরও ভূমিকা থাকতে পারে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পিডি হিসেবে তাঁকে নিয়োগের অফিস আদেশের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়। ২৭ আগস্ট পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-২ শাখা থেকে আদেশটি জারি হয় এবং উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন তাতে স্বাক্ষর করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসান মাহমুদের নাম কে প্রস্তাব করেছিলেন? কোন দপ্তর সুপারিশ করেছিল? কোন নোটশিটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল? কার অনুমোদনে তাঁকে চতুর্থ গ্রেড থেকে এত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হলো? এই চারটি প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ পেলেই বিতর্কের বড় অংশের অবসান হতে পারে বলে মনে করেন তারা।

পদ্মা ব্যারেজে স্বচ্ছতার পরীক্ষা

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের ব্যয় ৩৪ হাজার ৪৯৭.২৫ কোটি টাকা এবং এটি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের কথা। প্রকল্পের অফিস আদেশে সরকারি আর্থিক ও পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণের পাশাপাশি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সামনে রয়েছে বিপুল সরকারি অর্থের ব্যবহার। এই অবস্থায় পিডি নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটিকে রাজনৈতিক বিতর্কে আটকে না রেখে নথিভিত্তিক প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুসন্ধানে নেওয়া প্রয়োজন।

দুদকে অভিযোগ

হাসান মাহমুদ’র বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী সরকারের আমলে মোটা অংকের অর্থ বিনিময়ে ফাইল দামাচাপা দেয় বলেও অভিযোগ উঠে। প্রকৌশলী হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার আব্দুর রাজ্জাকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল অর্থ স্থানান্তর ও বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র ও নির্ভরযোগ্য সঠিক তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে জানা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার বসিলায় অবস্থিত মধু সিটিতেও হাসান মাহমুদ তার ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এসব বিনিয়োগের অর্থের উৎস ও প্রকৃত মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ আছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য হাসান মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা তিনি কল রিসিভ করেনি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে এসএমএস দিয়েও সাড়া মেলেনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সত্যতা যাচাই করতে হাসান মাহমুদের সম্পদ, দেশ-বিদেশে বিনিয়োগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের আর্থিক লেনদেনের তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।