etcnews
ঢাকাMonday , 24 August 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি
box ad 6
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘ভুয়া সনদে’ প্রভাষক থেকে অধ্যক্ষের চেয়ারে, এবার এমপিওভুক্ত হতে তোড়জোড়

etcnews
August 24, 2026 3:49 pm
Link Copied!

বরগুনার আমতলী উপজেলার ড. মোঃ শহীদুল ইসলাম কলেজে একাডেমিক নিয়োগ জালিয়াতি ও সরকারি এমপিওভুক্তির নামে এক নজিরবিহীন দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ড. মোঃ শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি বেতন-ভাতা পাইয়ে দেওয়ার অজুহাতে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি এবং নিজ স্ত্রীকে ভুয়া সনদের মাধ্যমে রাতারাতি অধ্যক্ষের চেয়ারে বসানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।
পনেরো লাখ টাকা না দেওয়ায় বাদ বৈধ অধ্যক্ষ, স্ত্রীকে বসানোর ছক
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৬ নভেম্বর স্থানীয় একটি পত্রিকায় বিধি মোতাবেক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচনী বোর্ডের সুপারিশক্রমে মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানকে কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে অত্যন্ত সুচারুভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে ২০২২ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকেই নেপথ্যের দৃশ্যপট দ্রুত বদলে যেতে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ড. মো. শহীদুল ইসলাম এমপিওভুক্তির কাগজপত্র ছাড়ানোর নাম করে বৈধ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। বিপুল অঙ্কের এই অনায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করাই কাল হয় তাঁর জন্য। এরপরই জোরপূর্বক তাঁকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেন সভাপতি। মূল অধ্যক্ষকে বাদ দিয়ে নিজের স্ত্রী মাসুমা আক্তার খাদিজাকে জালিয়াতির মাধ্যমে অধ্যক্ষ পদে বসিয়ে সরকারি এমপিওভুক্তির পাঁয়তারা শুরু করেন প্রতিষ্ঠাতা।
কাগজে-কলমে প্রভাষক, রাতারাতি হলেন অধ্যক্ষ!
নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠাতা ড. মো. শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মাসুমা আক্তার খাদিজা ২০১৩ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ওই কলেজে নিয়মিতভাবে প্রভাষক পদে কর্মরত ছিলেন। এমনকি করোনাকালীন সময়ে বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য সরকারঘোষিত পাঁচ হাজার টাকার প্রণোদনাও তিনি উত্তোলন করেছেন প্রভাষক হিসেবেই। ২০২১ সালে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কলেজের স্বীকৃতি নবায়নের দাপ্তরিক তথ্য এবং কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবেও তাঁর নাম প্রভাষক হিসেবেই নথিভুক্ত রয়েছে। কিন্তু কলেজটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর পরই চরম জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে মূল অধ্যক্ষের জায়গায় স্থলাভিষিক্ত করা হয় এই স্ত্রীকে। যার পুরো নেপথ্য কারিগর ছিলেন তাঁর প্রতিষ্ঠাতা স্বামী।
বিভাগ চালু হওয়ার আগেই পাশের ভুয়া সনদ!
প্রতিষ্ঠাতা স্বামীর হস্তক্ষেপে প্রভাষক থেকে সরাসরি অধ্যক্ষের আসনে বসা মাসুমা আক্তার খাদিজার বিরুদ্ধে উঠেছে ভুয়া সনদের আরও মারাত্মক অভিযোগ। নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মূলত মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কামিল পাস করা এই শিক্ষিকা অধ্যক্ষ পদের যোগ্যতা প্রদর্শনের জন্য এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন বিষয়ে স্নাতক (বিএ সম্মান) পাসের একটি সনদপত্র জমা দিয়েছেন। সনদে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ২০০৫ সালে প্রথম সেমিস্টার এবং ২০০৮ সালে চূড়ান্ত সেমিস্টার পাস করেছেন। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিভাগটিই চালু করা হয়েছে ২০০৬ সালে। বিভাগ চালুর আগেই সেটিতে ভর্তি ও পাসের এই অসম্ভব জালিয়াতির সব তথ্য প্রমাণ এখন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মাউশির অযোগ্য ঘোষিত ব্যক্তিকেই এমপিওভুক্ত করার মরিয়া চেষ্টা
এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একের পর এক তদন্তে অধ্যক্ষ মাসুমা আক্তার খাদিজার এমপিওভুক্ত হওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। মাউশির বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয় এবং ঢাকা প্রধান কার্যালয় থেকে ২০২৫সালের ১৩ আগস্ট এবং ২০২৪ সালের ০২ অক্টোবর আলাদা দুটি তদন্ত প্রতিবেদনে অধ্যক্ষের এমপিওভুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই বলে সুপারিশ করা হয়। শুধু খাদিজা নন, আরও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের এমপিওভুক্তির কোনো সুযোগ নেই বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।