দেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উন্নয়নে বিএনপি সরকারের ওপর আস্থা রাখতে দেশবাসীকে আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতির লক্ষ্য হচ্ছে এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষ, বিশেষ করে গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।
আজ রবিবার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি, মৎস্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন বলে জানান তিনি।এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি মাছের পোনা বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীতে আজ যে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো বড় হবে, ডিম দেবে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে। এর সুফল বাংলাদেশের মানুষই পাবে।মৎস্যসম্পদের উন্নয়নের এই উদ্যোগকে বৃহত্তর কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষ ও গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলেছিল। সরকার গঠনের পর সারা দেশে খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা যেমন উপকৃত হচ্ছেন, তেমনি বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানির সুবিধা পাবেন।
খনন করা খালের পানির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।তারেক রহমান বলেন, ধীরে ধীরে দেশের বড় বড় নদী ও খালগুলোতে মাছের চাষ গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হবে।
নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করার পরিকল্পনা
কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নারী শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দায়িত্বে থাকাকালে নারীদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে সব খরচ সরকার বহন করবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে তাদেরই দেশের হাল ধরতে হবে। যারা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা প্রায় এক কোটি ২০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর কাছে প্রতিবছর নতুন বইয়ের পাশাপাশি স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষি কার্ড’
নারী সমাজকে শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক পরিবারের প্রধান নারী বা মায়ের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি জানান, কিশোরগঞ্জ জেলায় এদিন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকদের বছরে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সার, বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দেওয়া হবে। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষি খাতকে আরো শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

