আজ ভারতের মহান স্বাধীনতা দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও ভারতজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হতে যাচ্ছে এ দিবসটি। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দেশাত্মবোধক গান ও লালকেল্লার ঐতিহ্যবাহী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে বিশেষ এ দিনটি। তবে এবারের উদযাপন ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—২০২৬ সালের এ আয়োজন কি ভারতের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস, নাকি ৮০তম?গণনার এই হিসাব নিয়ে অনেকের মধ্যে ধোঁয়াশা থাকলেও বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। হিসাবের পদ্ধতিভেদে দুটি উত্তরই সঠিক। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছিল। সেই হিসেবে দিবস গণনার দিক থেকে ২০২৬ সালটি ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। অন্যদিকে, ১৯৪৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত স্বাধীনতার পূর্ণ মেয়াদ হিসাব করলে ভারত স্বাধীনতার ৭৯ বছর পূর্ণ করছে। সহজ কথায়, এবার পালিত হচ্ছে ৭৯ বছর পূর্তি এবং ৮০তম স্বাধীনতা দিবস।১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে। নতুন এক ভোরে প্রবেশ করে স্বাধীন ভারত। স্বাধীনতার ঠিক পূর্বে সংবিধান সভায় দেওয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ঐতিহাসিক ট্রিস্ট উইথ ডেস্টিনি ভাষণটি আজও ইতিহাস হয়ে আছে।
ভারতের এই স্বাধীনতা রাতারাতি আসেনি। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন অহিংস আন্দোলন, বিভিন্ন গণসংগ্রাম, বহু সশস্ত্র বিপ্লবীর কারাবরণ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ কয়েক দশকের ধারাবাহিক লড়াইয়ের পর ব্রিটিশ শৃঙ্খলমুক্ত হয় দেশটি।২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে দুটি বিশেষ বিষয়কে মূল থিম বা ভাববস্তু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে—বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর: জাতীয় গানের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে দেশবাসীর সামনে নতুন করে তুলে ধরা। এমনকি ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি পূর্ণ উন্নত বা বিকশিত ভারত গড়ে তুলতে তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করা।
আয়োজনের অংশ হিসেবে ৯ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে চলছে হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি। ২০২২ সালে আজাদি কা অমৃত মহোৎসবের সময় শুরু হওয়া এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাসভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে উৎসাহিত করা।
ঐতিহ্য মেনে এবারও ভারতের স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লায়। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন, সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন এবং লালকেল্লার প্রাচীর থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে জাতীয় ভাষণ দেবেন।
স্বাধীনতার আট দশকের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে উদযাপিত হতে যাওয়া এই দিনটি শুধু আনুষ্ঠানিক ছুটির দিন নয়; বরং এটি দীর্ঘ ত্যাগ-সংগ্রামকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণের পাশাপাশি আগামী দিনের নতুন ভারত গড়ার অঙ্গীকার।

