কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় দায়ের করা ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগের মামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলায় জিসান প্রধানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জিসান প্রধান অপহরণের শিকার হননি; বরং এক নারীর করা ধর্ষণের অভিযোগ এবং বিয়ের চাপ এড়াতে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়ার পর জিসান দাবি করেন, তাকে একটি গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়েছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ করেন জিসান। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তার গর্ভপাত করানো হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান শুক্রবার বিয়ের আশ্বাস দেন। তবে সেই প্রতিশ্রুতি এড়িয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বৃহস্পতিবার আত্মগোপনে যান এবং ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করান।
পুলিশ আরও জানায়, জিসানকে উদ্ধারের পর শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় জিসান প্রধানসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
জিসান প্রধান (২৮) ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে, ছাত্রশিবিরের নেতা ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, জিসান প্রধানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

