ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার অভিযোগ এবং জোরপূর্বক ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করার অভিযোগের প্রতিবাদে কুমিল্লায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের জেলা ও মহানগর শাখা। সমাবেশ থেকে সীমান্তে সহিংসতা বন্ধ এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
শুক্রবার বিকেল ৫টায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আয়োজিত সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমীর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাহজাহান, কুমিল্লা উত্তর জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল মতিন, কুমিল্লা মহানগরীর নায়েবে আমীর মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মোবারক হোসেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, এবি পার্টি কুমিল্লা জেলা সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক এবং খেলাফত মজলিস কুমিল্লা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের জামাল।
সমাবেশ পরিচালনা করেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য দেন মহানগরীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন, সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল এবং কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা এবং জোরপূর্বক পুশইনের অভিযোগ দেশের সার্বভৌমত্ব, মানবাধিকার ও জাতীয় মর্যাদার জন্য উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ বিষয়ে সরকারকে দৃঢ় ও কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। সীমান্তে প্রাণহানি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধে উভয় দেশের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
সমাবেশে বক্তারা সতর্ক করে বলেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের অভিযোগ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব রাজনৈতিক দল ও সচেতন নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

