বিশ্বজুড়ে চলছে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা। এতে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরাও। নিজ নিজ পছন্দের দলের জার্সি পরা কিংবা বাড়ির ছাদে প্রিয় দলের জাতীয় পতাকা ওড়ানো— নানাভাবে নিজেদের উন্মাদনা প্রকাশ করছেন সমর্থকরা। এরই মাঝে প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসার এক ব্যতিক্রমী প্রকাশ ঘটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এলাকায় ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ডা. সুমন রায়।
জানা গেছে, বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালীন ডা. সুমন রায়ের চেম্বারে কোনো রোগী আর্জেন্টিনার জার্সি পরে চিকিৎসা নিতে আসলে তার নির্ধারিত পরামর্শ ফি (ভিজিট) ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক রাখা হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদর বাজারের হাসপাতাল রোডে অবস্থিত হেলথ এইড মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে তার এই অভিনব উদ্যোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ওই চিকিৎসকের নিয়মিত ভিজিট ৫০০ টাকা হলেও আর্জেন্টিনার জার্সি পরে আসা রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে মাত্র ২৫০ টাকা। আজ প্রথম দিনেই বেশ কয়েকজন রোগীকে এই বিশেষ ছাড়ের আওতায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
ডা. সুমন রায়ের চেম্বারে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এমনিতেও আর্জেন্টিনার একজন বড় ভক্ত। চিকিৎসকের এমন অফারের কথা শুনে আর্জেন্টিনার জার্সি পরেই চিকিৎসা নিতে এসেছি। জার্সি থাকার কারণে ডাক্তার আমার কাছ থেকে নির্ধারিত ফির অর্ধেক নিয়েছেন।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডা. সুমন রায় গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। এছাড়াও তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। একজন দক্ষ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে এলাকায় তার বেশ সুখ্যাতি রয়েছে।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. সুমন রায় বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই খেলা দেখার আনন্দটা অন্যরকম হয়ে ওঠে। সেই আনন্দকে সাধারণ মানুষের সাথে আরও একটু ভিন্নভাবে উদযাপন করার চিন্তা থেকেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া। আজ বৃহস্পতিবার থেকেই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলাম। এটি সম্পূর্ণ খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা ও আনন্দ ভাগাভাগির একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য আমার পক্ষ থেকে একটি শুভেচ্ছা উপহার। তবে এর কারণে চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটবে না। বরং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসবের আবহ আরও ছড়িয়ে পড়বে বলে আমি আশা করছি।’

