নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে চলমান এ ঘটনায় মোট গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ জনে।
সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আশরাফুল করিম বাবুর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিল থেকে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর পরদিন শনিবার বিকেলে কালাদরাপ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে রাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পাল্টা হামলা চালিয়ে কালাদরাপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়ি ও একটি অফিসে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর বাঁধেরহাট এলাকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়। মামলায় মোট ১১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসন এটিকে নিয়মিত রদবদলের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সুধারাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

