etcnews
ঢাকাFriday , 5 June 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি
box ad 6
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আ.লীগ নেতাকে বাঁচাতে ‘তিন কোটি’ দাবি করেছিলেন হান্নান মাসউদ : অভিযোগের জেরে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা

etcnews
June 5, 2026 9:17 pm
Link Copied!

নোয়াখালীর হাতিয়ায় এনসিপি নেতা ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের এক নেতাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে তিন কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল— এমন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর এক ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন হান্নান মাসউদ।

অভিযোগকারী আব্দুল গাফফার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দাবি করেন, একসময় হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।

গাফফারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার পৈতৃক বাড়িতে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা বাড়ির জানালার কাচ ও প্রধান ফটকের কিছু অংশ ভাঙচুর করে। এ সময় বাড়িতে তার বৃদ্ধ বাবা-মা অবস্থান করছিলেন, যা তাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

তিনি দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের পর নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে নিরাপদে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে একটি পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিন কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

গাফফারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি তিনি সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খানকে জানান। পরে রাশেদ খান এ নিয়ে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিলে সেটি নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন তিনি। এরপর থেকেই বিভিন্নভাবে হুমকি পেতে থাকেন বলে দাবি করেন।

এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে রাতেই সাগরিয়া বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদল। সংগঠনটির নেতারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, গাফফারকে কয়েক দিন ধরেই প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। যারা এসব হুমকি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেই হামলার অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো অস্বীকার করা হয়েছে। হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল কিবরিয়া বলেন, কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য সাজানো নাটক করা হচ্ছে। অন্য কারও বাড়িতে হামলার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

এদিকে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অন্ধকার দিক থেকে ছোড়া একটি ইটের আঘাতে জানালার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কারা এ কাজ করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাতিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেও হামলার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের পরিচয় এখনো স্পষ্ট নয়।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।