ঝিনাইদহে এবার ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বিল্লাল হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তি গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ব্যক্তি মারা যান।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার ব্যক্তি ৭ বছরের এক শিশুকে মিষ্টি কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা ও শ্লীলতাহানি করে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ৩টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চরখাজুরা গ্রামের ঝিনুক মালা আবাসন প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান।
নিহত বিল্লাল হোসেন মাগুরার মোহম্মদপুর উপজেলার দেউলি গ্রামের বরকত উল্লাহর ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ শহরে রিক্সা চালাতেন। চরখাজুরা ঝিনুক মালা আবাসনের একটি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বিকেলে আবাসনের বাসিন্দা এক ৭ বছরের শিশুকে মিষ্টি কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যায় অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন। পরে ওই শিশুকে ১০ টাকা দেয় ওই ব্যক্তি। পরে বিল্লাল হোসেনের ঘর থেকে শিশুটির চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন সেখানে ছুটে যান। সেখান থেকে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা বিল্লাল হোসেনকে গণপিটুনি দিয়ে বেঁধে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান।
আবাসনের বাসিন্দারা জানায়, এক সপ্তাহ আগে বিল্লাল হোসেন আবাসনে আসেন। এরপর তিনি একটি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান জানান, বিকেলে ভিকটিম শিশুর মা বাদী হয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে বিল্লাল হোসেনকে আসামী করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেনকে আটক করে চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ওসি মো. আসাদউজ্জামান বলেন, দুপুরে ওই ব্যক্তিকে আবাসন ও আশেপাশের উত্তেজিত লোকজন গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সন্ধ্যার পরে লোকটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

