ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরাঞ্চলমুখী যাত্রীচাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সিরাজগঞ্জের ঢাকা-রংপুর ও ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেলেও কোথাও উল্লেখযোগ্য যানজটের সৃষ্টি হয়নি। ফলে স্বস্তিতে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করছেন ঘরমুখো মানুষ।
যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক, হাটিকুমরুল গোলচত্বর, নলকা ও চান্দাইকোনা এলাকায় বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের চাপ বাড়তে দেখা গেছে। তবে চার লেন মহাসড়ক, উড়াল সেতু এবং হাটিকুমরুল ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ চালু থাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।বাড়ি ফেরা যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা জানান, যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হওয়া এবং আধুনিক ইন্টারচেঞ্জ ব্যবস্থা চালুর ফলে এবার ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হয়েছে। আগের বছরের মতো দীর্ঘ যানজট বা ভোগান্তি ছাড়াই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন তারা।
যমুনা সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজউদ্দিন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি।তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে সেতু এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর পর ঢাকা-রংপুর মহাসড়কসহ পুরো হাইওয়ে জোনে পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও যানবাহন দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না এবং সার্বক্ষণিক তদারকির মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে।’

