বনলতা/সিল্কসিটি/পদ্মা/ধুমকেতু/মধুমতী এক্সপ্রেস নিউজ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে ভয়াবহ দুইটি ট্রেন দুর্ঘটনার গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫৮ হাজার।
গুজবমূলক পোস্ট দুইটি করা হয়েছে “শ্রাবণী” নামের একটি আইডি থেকে, যিনি ওই গ্রুপের এডমিন বলে জানা গেছে। পোস্টগুলোতে AI দিয়ে তৈরি করা ভুয়া ছবি ব্যবহার করে চট্টগ্রাম ও টাঙ্গাইলে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার দাবি করা হয়।
প্রথম পোস্টে দাবি করা হয়, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাঁশখালী রেলস্টেশন এলাকায় যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে মালবাহী ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ১৫ জন নিহত ও ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আরো উল্লেখ করা হয়, সিগন্যাল জটিলতা বা মানবিক ভুলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে রেলওয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও পোস্টে দাবি করা হয়। পাশাপাশি উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা কাজ করছে এবং ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে বাস্তবে আজ দেশের কোথাও এ ধরনের কোনো ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে সূত্র ও স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পোস্টে উল্লেখিত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
একই আইডি থেকে করা দ্বিতীয় পোস্টে দাবি করা হয়, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ভুস্ত্রাপুর রেলওয়ে এলাকায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সকল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেখানে বলা হয়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ১৮ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। পোস্টে আরো দাবি করা হয়, ট্রেনের একটি বগি পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এবং আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়রা অংশ নিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
কিন্তু বাস্তবে টাঙ্গাইলেও এ ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। বাংলাদেশ রেলওয়ের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার দাবিটিও সম্পূর্ণ গুজব।
গুজবমূলক পোস্টগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো যাত্রী ও তাদের পরিবারের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই না জেনে পোস্টগুলো শেয়ার করায় বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে।
যাত্রীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন।

