পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নে এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের পর তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬/০৬/২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কলাপাড়া থানাধীন চম্পাপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের উত্তর-পূর্ব চালিতাবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার রাতে বাদিনী তার ছোট ছেলে সাজিন উর ইসলাম জিহাদ (১৫)-কে সঙ্গে নিয়ে বসতঘরের সামনের দরজায় তালা ও পেছনের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় তার মেয়ে, ভিকটিম মোসাঃ সিনথিয়া জাহান মারিয়া (১৭), ঘরের সামনের বারান্দায় একটি চৌকির ওপর ঘুমিয়ে ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, এজাহারনামীয় আসামি মোঃ রাব্বি (৩০) অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের সহায়তায় গোপনে বসতঘরের পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবেশ করে সামনের বারান্দায় যান। সেখানে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা কিশোরীর মুখ চেপে ধরে তার সঙ্গে জোরপূর্বক অসদাচরণ ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভিকটিম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মা লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে কলাপাড়া থানা পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এর ৯(৪)(খ) ধারা এবং পেনাল কোডের ৪৫৭ ধারায় মামলা রুজু করে।
মামলার তদন্তভার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাহিদুল ইসলাম জয়ের ওপর অর্পণ করা হয় বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মোঃ রাব্বি খান (৩০)-কে ঢাকার বনানী এলাকার একটি বস্তি এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোঃ রুবেল মৃধা (৪০) ও মোঃ ইমন (৩৫)-কে কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের উত্তর-পূর্ব চালিতাবুনিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হয় এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।

