বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক ও চুলে পরিবর্তন আসা খুবই স্বাভাবিক। অনেকের ত্বক আগের মতো উজ্জ্বল থাকে না, চুলও ধীরে ধীরে রুক্ষ ও পাতলা হয়ে যেতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম বড় কারণ শরীরে কোলাজেনের মাত্রা কমে যাওয়া।
কোলাজেন হলো শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন, যা ত্বক টানটান রাখতে সাহায্য করে। শুধু ত্বক নয়, চুল, হাড়, অস্থিসন্ধি ও শরীরের বিভিন্ন কোষের সুস্থতার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। বয়স বাড়ার পাশাপাশি দূষণ, অনিয়মিত জীবনযাপন ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণেও শরীরে কোলাজেনের উৎপাদন কমতে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে কোলাজেন কমে গেলে ত্বকে বলিরেখা দেখা দিতে পারে। ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে যায়। একই সঙ্গে চুলের স্বাভাবিক ঘনত্বও কমে যায় এবং চুল দুর্বল হতে শুরু করে।
এই কারণে বর্তমানে অনেকেই কোলাজেন বাড়ানোর জন্য নানা ধরনের সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করছেন।
কেউ পানীয়ের সঙ্গে কোলাজেন মিশিয়ে খাচ্ছেন, আবার কেউ বিভিন্ন স্বাস্থ্যপণ্য ব্যবহার করছেন।
তবে পুষ্টিবিদদের মতে, কোলাজেন বাড়াতে সব সময় আলাদা সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হয় না, ঘরোয়া উপায়েও শরীরে কোলাজেনের মাত্রা বাড়ানো সম্ভব।
গাজর ও কুমড়ো দিয়ে তৈরি স্যুপ নিয়মিত খেলে শরীর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, বিটা-ক্যারোটিন ও কোলাজেন তৈরির প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে। তিনি জানান, টানা আট থেকে দশ সপ্তাহ এই স্যুপ খাদ্যতালিকায় রাখলে ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা কিছুটা ফিরে আসতে পারে। তবে এর ফল রাতারাতি দেখা যাবে না।
নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং ধৈর্য ধরে অভ্যাস চালিয়ে গেলে ধীরে ধীরে পরিবর্তন বোঝা যাবে।
যেভাবে তৈরি করবেন গাজর-কুমড়ার স্যুপ
প্রথমে একটি পাত্রে সামান্য তেল গরম করে তাতে রসুন কুচি, পেঁয়াজ কুচি ও টমেটো কুচি দিন। এরপর কুমড়া ও গাজরের টুকরো যোগ করুন। স্বাদমতো লবণ, গোলমরিচ গুঁড়া ও সামান্য পানি দিয়ে সব উপকরণ ভালোভাবে সিদ্ধ করে নিন।
এরপর সিদ্ধ মিশ্রণটি ব্লেন্ড করে মসৃণ করে নিতে হবে। পরে আবার চুলায় বসিয়ে প্রয়োজনমতো পানি বা দুধ মিশিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। শেষে ধনেপাতা কুচি ও সামান্য গোলমরিচ ছড়িয়ে পরিবেশন করলেই তৈরি স্বাস্থ্যকর এই স্যুপ।

