জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিজনিত মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম টানা চতুর্থ দিনের মতো কমেছে। একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের দিকে।
শুক্রবার (১৫ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬১৩ ডলার ১৯ সেন্টে নেমে আসে। এটি ৬ মে’র পর সর্বনিম্ন অবস্থান। চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম কমেছে মোট ২ দশমিক ১ শতাংশ।জুন মাসের স্বর্ণ ফিউচারও ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬১৯ ডলারে।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন ডলারের মান ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সব দিক থেকেই চাপের মুখে পড়েছে স্বর্ণ। তেলের দাম বাড়ায় আবারও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা সামনে এসেছে। এতে বন্ডের মুনাফা ও ডলারের মান বেড়েছে, আর সুদ কমানোর আশা দুর্বল হয়ে পড়ায় স্বর্ণই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা প্রায় এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় বেড়ে গেছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিপরীতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হলেও, উচ্চ সুদের হার সুদবিহীন এই সম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ভূরাজনৈতিক অঙ্গনেও নজর রয়েছে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের দিকে। ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের সমাপ্তিতে শুক্রবার তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সফরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি তাইওয়ান ইস্যু ভুলভাবে সামাল দিলে সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শি জিনপিং।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮০ ডলার ৯৩ সেন্টে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে হয়েছে ২ হাজার ২১ ডলার ৭৫ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২৩ ডলার ৭৫ সেন্টে।
সূত্র : রয়টার্স

