দেশে পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে পুলিশকে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। যেসব পুলিশ সদস্যরা অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন, বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে তাদের ওভারটাইম ভাতা দেওয়া হতে পারে। কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক পর্যন্ত এই ভাতা পেতে পারেন। পাশাপাশি পুলিশের জন্য আরও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও এসেছে।
রোববার (১০ মে) থেকে শুরু হওয়া পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায়’ এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ অডিটরিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন। তিনি পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে পুলিশ অডিটরিয়ামে কল্যাণ সভায় যোগ দেন।
কল্যাণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের নানা দাবি-দাওয়ার বিষয়ে কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা প্রদানের কথা ভাবছে সরকার। এতে পুলিশের মনোবল বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও অধিক কর্মচাপ বিবেচনায় পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। পুলিশের হাসপাতালগুলোকে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আরও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।
পুলিশের বিভিন্ন ভবন ও আবাস সমস্যা নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ভবন, কার্যালয় নির্মাণ ও আবাসন সমস্যা দূর করতে বর্তমান সরকার আন্তরিক। এক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- প্রতিপাদ্য নিয়ে এবারের পুলিশ সপ্তাহ শুরু হয়েছে। আগামী ১৩ মে নানা কর্ম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে এই আয়োজন শেষ হবে। পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে পরবর্তী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।

