সুস্থ থাকতে আমরা অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম করি। কিন্তু জিম, দৌড়ানো বা হাঁটা—যেটিই করি না কেন, তা থেকে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়ার জন্য সঠিক সময় বেছে নেওয়া জরুরি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক ঘড়ি বা ‘বডি ক্লক’-এর সঙ্গে মিল রেখে ব্যায়াম করলে হৃৎপিণ্ড অনেক বেশি ভালো থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবার জন্য ব্যায়ামের একই সময়সূচি কাজ করে না।এটি নির্ভর করে আপনার অভ্যাসের ওপর। সেগুলো হলো :
মর্নিং লার্ক (ভোরের পাখি) : যারা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য সকালের ব্যায়াম সবচেয়ে উপকারী।
নাইট আউল (রাতের প্যাঁচা) : যারা অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন এবং দেরিতে ওঠেন, তাদের জন্য সন্ধ্যার ব্যায়াম বেশি কার্যকর।
পাকিস্তানের প্রায় ১৩৫ জন ব্যক্তির ওপর চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিজেদের শরীরের ধরন বা ‘দেহঘড়ি’ মেনে ব্যায়াম করেছেন, তাদের শারীরিক উন্নতি অন্যদের চেয়ে দ্রুত হয়েছে।এর ফলে তাদের রক্তচাপ দ্রুত কমেছে। রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক হয়েছে। ঘুমের মান অনেক উন্নত হয়েছে। শরীরের নমনীয়তা ও কর্মক্ষমতা বেড়েছে।
কিছু নির্দেশনা
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছে :
সপ্তাহে অন্তত দুই দিন : ইয়োগা বা ভারোত্তলোনের মতো শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করা।
সপ্তাহে ১৫০ মিনিট : দ্রুত হাঁটার মতো মাঝারি ব্যায়াম অথবা ৭৫ মিনিট দৌড়ানোর মতো পরিশ্রমের ব্যায়াম করা।
বসে থাকা কমানো : দীর্ঘ সময় টানা এক জায়গায় বসে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করা।
জোর করে অলস সকালে বা ক্লান্ত রাতে ব্যায়াম না করে আপনার শরীর যখন সবচেয়ে বেশি সজাগ থাকে, তখনই শরীরচর্চা করুন। তবে সময় যা-ই হোক, নিয়মিত ব্যায়াম করাই হলো সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি।
সূত্র : বিবিসি নিউজ বাংলা

