কুমিল্লায় মাদ্রাসা বোর্ডের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ফাজিল (স্নাতক) পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শকের উপস্থিতিতেই বই-খাতা খুলে পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যার ২ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ২১ ডিসেম্বর ঘটনাটি ঘটে সদর দক্ষিণ উপজেলার পিপুলিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে। এই দিন ফাজিল প্রথম ও তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা ছিল। বিষয়টি জানাজানির পর গতকাল বিকেলে উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, পরীক্ষার কক্ষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছেই বই রয়েছে। তারা টেবিলে বই খুলে রেখে প্রশ্নের উত্তর লিখছেন। তারা সবাই ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। নিজ মাদ্রাসায় পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়ায় শিক্ষকরাই বই খুলে উত্তরপত্র লেখার সুযোগ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন্দ্র ফি বাবদ ৫০০ টাকা এবং পরীক্ষায় অসদুপায়ের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে আরও ৬০০ টাকা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায় করেন।
মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসকে কল করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। এর পর একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মো. তৈয়ব হোসেন বলেন, অসদুপায়ের বিষয়টি নজরে এসেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত কমিটি করে দিয়েছেন। তদন্ত কমিটি আজ বুধবার থেকে কাজ শুরু করবে।

