ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে গতি এনেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে এবং দেশজুড়ে সম্ভাব্য প্রার্থী যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করেছে। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিতভাবে নেওয়া হচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও এনসিপি এককভাবে না কি জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে, তা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। চলতি মাসেই দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলীয় নেতাদের পাশাপাশি সাবেক এমপি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়নবঞ্চিত নেতা, তরুণ ও জনপ্রিয় ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। তবে বিগত তিন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কাউকে মনোনয়ন না দেওয়ার পক্ষেই দলটির বেশিরভাগ নেতা।
গত বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে এনসিপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি। আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যেই আগ্রহীদের আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে হবে। এরপর ১৫ নভেম্বর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। এনসিপি সূত্র বলছে, প্রাথমিকভাবে ১০০ থেকে ১৫০টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। তবে দলটি ৩০০ আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে না কি জোটগতভাবে বা সমঝোতার ভিত্তিতে অংশ নেবে, তা নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চলছে আলোচনা। দলের অধিকাংশ নেতা একক নির্বাচনের পক্ষে মত দিলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি কিংবা জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মনোনয়ন ফরম বিক্রির বিষয়ে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সাইফুল্লাহ হায়দার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৬৫-৭০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ে বাইরের শুভাকাঙ্ক্ষী ও নেতাকর্মীরা মনোনয়ন ফরম বেশি কিনছেন। নির্ধারিত ১০ হাজার টাকার বেশি দিয়েও ফরম কিনছেন কেউ কেউ। সমাজের সব ধরনের মানুষের জন্য আমরা মনোনয়ন ফরম উন্মুক্ত রেখেছি। আশা করি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আগ্রহী সবাই কিনবেন।’
দলীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলের যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীদের পাশাপাশি জিতে আসার মতো সক্ষমতা থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি এবং জামায়াতের মনোনয়নবঞ্চিত জনপ্রিয় নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দিকেই নজর এনসিপির। প্রায় প্রতিদিনই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং অনেকে আগ্রহও প্রকাশ করছেন বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। এ ছাড়া এমন নেতাদের অনেকে নিজে থেকেও এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলেও দলটির নেতারা জানিয়েছেন।

