etcnews
ঢাকাWednesday , 15 October 2025
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি
box ad 6
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জুলাই সনদের বাইরে নিবন্ধিত ৩০ দল

etcnews
October 15, 2025 5:22 am
Link Copied!

বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫২টি। এর মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পতন হওয়া আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। জুলাই সনদ ইস্যুতে ঐকমত্য কমিশনের কয়েক ধাপের সংলাপে অন্তত ৩৩টি দল ও সমমনা জোট অংশ নেয়। এর মধ্যে মাত্র ২১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। ফলে জুলাই সনদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের যোগাযোগ, সংলাপ বা মতামত গ্রহণের বাইরেই রয়ে গেছে নিবন্ধিত অন্তত ৩০টি রাজনৈতিক দল।

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগে বেশিরভাগ নিবন্ধিত দলের অনুপস্থিতি ভবিষ্যতের ঐক্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কমিশন সংলাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মতামত নিয়ে ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত করার পথে এগোলেও বাইরে থাকা দলগুলোর ভূমিকা ও অবস্থান বিবেচনায় রাখা জরুরি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কাঠামোর নানামুখী সংস্কারের সুপারিশ সংবলিত বহুল আলোচিত এ জুলাই সনদ প্রস্তুত হয়েছে। আগামী শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এই সনদে স্বাক্ষর করবেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশগ্রহণ করা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। এরই মধ্যে দলগুলোর কাছে এ সনদের কপিও পাঠানো হয়েছে। তবে সংস্কারের এই প্রক্রিয়া থেকে বাইরেই রয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল। এসব দলের সঙ্গে কোনো ধরনের সংযোগ স্থাপন বা মতামত নেয়নি ঐকমত্য কমিশন। ফলে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক দলের অংশগ্রহণ না থাকায় ভবিষ্যতে এই ঐকমত্যের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কমিশনের উচিত ছিল আলোচনার দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা। যেসব দল সংলাপে আমন্ত্রণ পায়নি বা অংশ নেয়নি তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানো না গেলে চূড়ান্ত সনদের গ্রহণযোগ্যতা একটি সীমিত পরিসরে আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া সংস্কারের লক্ষ্য অর্জন নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মহাসচিব জাফর আহমেদ জয় বলেন, ঐকমত্য কমিশনে আমাদের ডাকা হয়নি। এমনকি মতামতও নেওয়া হয়নি। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে কিন্তু সরকার ও ঐকমত্য কমিশনই বৈষম্য করছে। নিবন্ধিত অনেক রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়া হয়নি।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মহাসচিব আবুল বাশার মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন জুবাইর বলেন, আমরা ঐকমত্য কমিশনের কোনো চিঠি পাইনি। জুলাই সনদকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি। তবে এ নিয়ে মতামত দেওয়ার কোনো সুযোগ আমরা পাইনি।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এমএ মতিন বলেন, ঐকমত্য কমিশনের কোনো সংলাপে আমাদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি। আমরা জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় অংশীদার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান সরকারে যারা আছেন তারা জাতিকে আবার বিভক্ত করার জন্য একটা অংশকে নিয়ে ফের তারা যে কাণ্ডগুলো করছেন আমরা তার প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাই। এতগুলো নিবন্ধন রাজনৈতিক দলকে মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সংস্কারের নামে যেগুলো করছে এবং মতামত নিচ্ছে; এ ব্যাপারে তারা একমত হচ্ছেন, আবার দ্বিমত হচ্ছেন। এ নিয়ে যারা মতামত দিচ্ছেন ও নিচ্ছেন এর দায়ভার তারাই নেবেন।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীরপ্রতীক বলেন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির নীতিবাক্য হলো পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি। জুলাইয়ে তরুণ সম্প্রদায়ের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে, সেই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাই। ঐক্যমত্য কমিশনের সংলাপ ও জুলাই সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টিকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও কেন দাওয়াত দেওয়া হয়নি সেটি সুস্পষ্টভাবে জানি না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া। যখন দেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার বাইরে রাখা হয়, তখন সেই আলোচনা থেকে প্রাপ্ত সিদ্ধান্ত বা ঐকমত্য দেশের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্ব করে না। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তাদের প্রতিটি দলেরই দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রস্তাবনা রয়েছে। অতীতের সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সুতরাং সবার মতামত গ্রহণ না করলে সেই ‘ঐকমত্য’ শুধু একটি আংশিক বা খণ্ডিত ঐকমত্য হিসেবে বিবেচিত হবে, যা ভবিষ্যতে ফের নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব এবং সাবেক জেলা ও দায়রা জজ শাহজাহান সাজু বলেন, জুলাই সনদ কোনো আইন নয়, এটি একটি সমঝোতা। এ সমঝোতায় ঐকমত্য কমিশন কাকে রাখবে বা রাখবে না সেটা নির্ভর করছে কমিশনের ওপর। আর যারা এই সনদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অথবা সনদে স্বাক্ষর করছেন তারাই এটি মানতে বাধ্য। বাকিরা তো করেননি, সেজন্য তারা বাধ্যও নন। তবে যারা করেননি, তারা ভবিষ্যতে এর বিরুদ্ধে যে রাস্তায় নামবেন না, তার গ্যারান্টি নেই। ফলে এটি ভবিষ্যতে সমস্যা হতেও পারে। তিনি আরও বলেন, যেসব দলকে ডাকা হয়নি বর্তমান হয়তো তাদের সমর্থন কম। কিন্তু ভবিষ্যতে তাদের সমর্থন বাড়বে না তেমন নয়। আর ভবিষ্যতে এসব দলের সঙ্গে অন্য দলও একজোট হলে এ সনদ বাস্তবায়নে বাধা হতে পারে।

এ মতের বিরোধিতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে যেসব রাজনৈতিক দলের সমর্থন ও অংশগ্রহণ ছিল, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ প্রক্রিয়ায় তারা থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেটাই হয়ে থাকে। পরাজিত কাউকে কোনো প্রক্রিয়ায় রাখা হয় না। ইসিতে নিবন্ধিত অনেক রাজনৈতিক দল বিগত সরকারের সহযোগী ও সমর্থক থাকায় তাদের জুলাই সনদে যুক্ত করা হয়নি। ফলে আগামীতে সরকারের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা থাকলে জুলাই সনদেরও বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা থাকবে।

তবে বারবার যোগাযোগ করা হলেও ঐকমত্য কমিশনের কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।