চলতি এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার হাজীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থীও অংশগ্রহণ করেনি। বিদ্যালয়টির খাতায় ২০০ শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও বাস্তবে উপস্থিতি মাত্র ৬ জন। শিক্ষার্থী সংকট, অনিয়মিত পাঠদান এবং উপস্থিতির চরম দুরবস্থাকে এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০১ সালে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও তাদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এর আগে ২০২৫ সালে মাত্র ১ জন পরীক্ষার্থী ছিল। ২০২৪ সালে ৫ জনের মধ্যে ৪ জন এবং ২০২৩ সালে ১১ জনের মধ্যে ৮ জন পাস করে। তবে ২০২২ সালে ১১ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাতা-কলমে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও বাস্তবে উপস্থিতি অত্যন্ত কম। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৪ জন, ৭ম শ্রেণিতে ১ জন এবং ৮ম শ্রেণিতে ১ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল—মোট মাত্র ৬ জন। হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় মার্চ ও চলতি এপ্রিল মাসে নিয়মিত উপস্থিতি সংরক্ষণের প্রমাণও মেলেনি। অন্যদিকে, কর্মরত ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৬ জন।অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিক্ষার্থী সংখ্যা কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানোর জন্য উপজেলার বিভিন্ন প্রাইভেট স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদেরও এ বিদ্যালয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে কাগজে সংখ্যা বেশি হলেও বাস্তবে শ্রেণিকক্ষ প্রায় ফাঁকাই থাকছে। অন্যদিকে, কর্মরত ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৬ জন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিক্ষার্থী সংখ্যা কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানোর জন্য উপজেলার বিভিন্ন প্রাইভেট স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদেরও এ বিদ্যালয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে কাগজে সংখ্যা বেশি হলেও বাস্তবে শ্রেণিকক্ষ প্রায় ফাঁকাই থাকছে।শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষ এবং বিকল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতি ঝোঁকের কারণে দিন দিন এ বিদ্যালয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ চন্দ্র রায় বলেন, ‘২০২২ সালে এসএসসিতে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার পর থেকেই মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী কমতে শুরু করে। আমরা পরিস্থিতি উত্তরণের চেষ্টা করছি।’ শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান সরকার বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘কোনো বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও অংশ না নেওয়া উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

