বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাজারো নেতা–কর্মী কাকরাইল মোড়ে যমুনার প্রবেশপথের কাছাকাছি অবস্থান নেন। তাঁরা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। যমুনার দিকে যাওয়ার পথ আটকে দেয় পুলিশ।
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বসানোর বিষয়ে তাঁর সমর্থকদের দেওয়া আলটিমেটামে সাড়া দেয়নি সরকার। এ জন্য নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করার পাশাপাশি মৎস্য ভবন মোড় অবরোধ করেছেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা।
অন্যদিকে বাংলাদেশ পেশাজীবী জোটের ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীদের একাংশ।
আজ বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ইশরাক হোসেনের পক্ষে চলমান বিক্ষোভ কর্মসূচির সমন্বয়কারী সাবেক সচিব মশিউর রহমান।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ষষ্ঠ দিনের অবস্থান কর্মসূচি থেকে মশিউর রহমান বলেন, ‘আমরা বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করব। এর মধ্যে ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না আসলে আবারও সকাল ১০টায় একত্র হয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি করব।’ একই সঙ্গে ঢাকা অচলেরও হুমকি দেন তিনি।
এ সময় এই আন্দোলন ও দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের সর্বস্তরের কর্মচারী ইউনিয়ন। তারা দাবি মেনে নেওয়া না হলে নাগরিক সেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি দেয়।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলটিমেটামে সাড়া না দিলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে মৎস্য ভবন মোড় অবরোধ করা হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, সকাল ১০টার কিছু সময় পর মৎস্য ভবন এলাকায় জড়ো হতে থাকেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা। ঢাকাবাসীর ব্যানারে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করছেন।
সাড়ে ১০টার দিকে বিক্ষোভকারীরা মৎস্য ভবন মোড়ে অবস্থান নিলে এই পথ হয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বেলা ১২টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখার সময় দেখা গেছে, মৎস্য ভবন মোড় অবরোধ করার কারণে আশপাশের এলাকায় ইতিমধ্যে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে।
আজও নগর ভবনের সব ফটকে তালা ঝুলছে। এ জন্য নাগরিক সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কর্মকর্তারা অঘোষিত ছুটিতে আছেন। নগর ভবনে স্থানীয় সরকার বিভাগেরও কার্যালয় রয়েছে। সেখানে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াও অফিস করতেন। ১৪ মে ইশরাককে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরুর পর স্থানীয় সরকার বিভাগের কার্যালয়ও বন্ধ রয়েছে। ওই দিন থেকে সেখানে আর যাননি উপদেষ্টা আসিফ।

